ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা: গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত থাকবে
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, ভারত সব সময় একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে এবং ভবিষ্যতেও সমর্থন করে যাবে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ভারতীয় হাইকমিশনের আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃঢ় বন্ধন
প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আজ এখানে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দৃঢ় বন্ধনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতের সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করবে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের দুই জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের অভিন্ন ত্যাগের অমোচনীয় স্মৃতি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছে। আজ আমরা একটি আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে পারি। এর মধ্য দিয়ে কেবল আমাদের দুই দেশই নয়, বরং বৃহত্তর অঞ্চলের সম্মিলিত সমৃদ্ধি অর্জনও সম্ভব।’
ইফতারে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
ইফতার অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ মন্ত্রিপরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কয়েকজন উপদেষ্টা, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবি, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারের সাবেক ও বর্তমান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার আমন্ত্রিত অতিথিরা এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
রমজানের শুভেচ্ছা ও বার্তা
ইফতার অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার প্রতি এবং রোজা পালনকারী বাংলাদেশিদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, এই দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও জোরদারের বার্তা বহন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পবিত্র মাস সবার জন্য সুস্বাস্থ্য, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুখ বয়ে আনুক এবং সহানুভূতি, করুণা ও অন্তর্ভুক্তির মতো মানবিক মূল্যবোধকে আরও জাগিয়ে তুলুক।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
