ইফতারে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা: বাংলাদেশ-ভারতের প্রতিশ্রুতিশীল ভবিষ্যতের ঘোষণা
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সেখানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভারতের সমর্থন ও বন্ধুত্বের বার্তা
প্রণয় ভার্মা বলেন, নয়াদিল্লি সবসময়ই একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক রয়েছে, যা জনগণের মধ্যে সামাজিক ও পারিবারিক নিবিড় বন্ধনের প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি
ইফতার অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক উপষ্টো মির্জা আব্বাস, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, জাতীয় সংসদের তিন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আশরাফউদ্দিন নিজান ও রফিকুল ইসলাম বকুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিক, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট নাগরিকরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ঐতিহাসিক বন্ধন ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি
ভার্মা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যৌথ ত্যাগের অমোচনীয় স্মৃতি আজও আমাদের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, দুই প্রাণবন্ত ও অগ্রসরমান সমাজ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশ অভিন্ন সমৃদ্ধি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এক প্রতিশ্রুতিশীল ভবিষ্যতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি ইফতারে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিকে দ্বিপক্ষীয় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্মিলিত অঙ্গীকার হিসেবে বর্ণনা করেন।
রমজানের শুভেচ্ছা ও আশাবাদ
ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের জনগণকে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, রমজান মাস হলো সংযম, সহমর্মিতা ও উদারতার এক বিশেষ সময়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এ মাস শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনবে।
এই অনুষ্ঠানটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথ সুগম করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
