ইরান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী পদত্যাগ
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোম পদত্যাগ করছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি মার্চ মাসের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এ ঘোষণা দেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ৩১ মার্চ ২০২৬ থেকে ওকলাহোমার রিপাবলিকান সেনেটর মার্কওয়েন মুলিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন।
ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নতুন মন্ত্রীর নাম
ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ওকলাহোমার সম্মানিত সেনেটর মার্কওয়েন মুলিন ৩১ মার্চ ২০২৬ থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।” মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময় এই পদে দায়িত্ব পালন করার পর মন্ত্রিসভা থেকে সরে যাচ্ছেন নোম। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাকে প্রশাসনে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
‘এনভয় ফর দ্য শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ নামে নতুন একটি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য। এই দায়িত্বে থেকে তিনি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগের নেতৃত্ব দেবেন। ক্রিস্টি নোম দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন সময় ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশংসা পেলেও সমালোচনার মুখেও পড়েন।
অভিবাসনবিরোধী প্রচারাভিযান নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা
চলতি সপ্তাহে একটি অভিবাসনবিরোধী প্রচারাভিযানের অর্থায়ন নিয়ে কংগ্রেসে দেওয়া তার বক্তব্য প্রেসিডেন্টকে ক্ষুব্ধ করে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় শুনানিতে আইনপ্রণেতারা নোমের কাছে জানতে চান, অবৈধ অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগে উৎসাহিত করতে পরিচালিত একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণার অর্থায়ন কোথা থেকে এসেছে।
নোম ওই শুনানিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এই প্রচারাভিযান অনুমোদন করেছিলেন। তবে হোয়াইট হাউস পরে তা অস্বীকার করে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ২২ কোটি ডলারের এই প্রচারাভিযানে অনুমোদন দেননি।”
জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে অভিবাসনবিরোধী ওই প্রচারণার জন্য হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রায় ৮ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর নোমই প্রথম ব্যক্তি, যিনি তার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করছেন। মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার আগে ক্রিস্টি নোম যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
নোমের পদত্যাগের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ দায়িত্ব
এই পদত্যাগের ঘটনাটি ইরান উত্তেজনার মতো আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ঘটলেও, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কারণগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। নোমের নতুন দায়িত্ব ‘এনভয় ফর দ্য শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশলকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মার্কওয়েন মুলিনের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন। এই পরিবর্তনটি ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বড় মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
