ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পকে হুমকি দিলেন, বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল শোধনাগারে আগুন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই হুমকি প্রদান করেন। ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই কূটনীতিক তার পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, "মি. প্রেসিডেন্ট, আপনার দ্রুত সামরিক বিজয়ের জন্য প্ল্যান ‘এ’ সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। আপনার প্ল্যান ‘বি’ হবে আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ ও বিপজ্জনক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।"
ইউনিক চুক্তির সম্ভাবনা শেষ এবং ইসরায়েল সম্পর্কে মন্তব্য
আরাঘচি আরও উল্লেখ করেন যে, তেহরানের সঙ্গে ইউনিক চুক্তির সম্ভাবনা এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। তিনি তার পোস্টে জোর দিয়ে বলেন, "ইসরায়েলের প্রথম মানে আমেরিকার লাস্ট।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে একটি তীব্র বার্তা দিয়েছেন।
আরাঘচির সাক্ষাৎকারে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা প্রত্যাখ্যান
এনবিসিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "ইরান বর্তমানে যুদ্ধবিরতি চায় না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করার কোনও যৌক্তিক কারণ আমরা দেখছি না। আমরা ইতিমধ্যে তাদের সঙ্গে দু’বার আলোচনা করেছি, কিন্তু প্রতিবারই তারা আলোচনার মাঝখানে আমাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।" এই বক্তব্য ইরানের কঠোর অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করে তোলে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার সম্ভাবনা
হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে আরাঘচি দাবি করেন যে, ইরান এখনও পর্যন্ত এই প্রণালি বন্ধ করেনি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "জাহাজ ও ট্যাংকারগুলো সেখান দিয়ে যেতে চাচ্ছে না বলেই এটি ঘটছে। প্রণালি বন্ধ করার কোনও পরিকল্পনা আমাদের বর্তমানে নেই। তবে, যদি যুদ্ধের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে বা তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, তাহলে আমরা সেটি করতে বাধ্য হতে পারি।" এই মন্তব্যটি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড
অন্যদিকে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বাহরাইনের একটি প্রধান তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাহরাইন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলছে, "আমাদের প্রধান তেল শোধনাগার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে এবং সেখানে ব্যাপক আগুন লেগেছে।" এই ঘটনাটি আঞ্চলিক সংঘাতের মাত্রাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বাহরাইনের বিবৃতি ও অগ্নি নির্বাপণ প্রচেষ্টা
বাহরাইনের ন্যাশনাল কমিউনিকেশন সেন্টার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার পরপরই বাপকো এনার্জিস রিফাইনারিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেখানে অগ্নি নির্বাপণে জরুরি কাজ চলছে এবং এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি এবং ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ চলমান রয়েছে।"
এই ঘটনাগুলো ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাব্য বিস্তার সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে মোড় নিতে পারে যদি না দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
