বাণিজ্যমন্ত্রী: ট্রাম্প প্রশাসনের চুক্তি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়, সুযোগ আছে দরকষাকষির
ট্রাম্প প্রশাসনের চুক্তি নেতিবাচক নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী

ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মন্তব্য বাণিজ্যমন্ত্রীর

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে পুরোপুরি নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন না বলে জানিয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

চুক্তির ইতিবাচক দিক ও ভবিষ্যত সম্ভাবনা

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "চুক্তির অনেকগুলো ধারা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।" তিনি উল্লেখ করেন যে এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ বিদ্যমান। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তিতে কোনো খারাপ ধারা থাকলে তা সরকারকে দেখিয়ে দিতে হবে এবং সেগুলো সংশোধনের জন্য দরকষাকষির সুযোগ রয়েছে।

মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিনন্দন ও সহযোগিতার আশ্বাস

এদিকে, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর বাংলাদেশের নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, "মার্কিন সরকার নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী এবং এই সম্পর্ক আরও জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।" পল কাপুর বিশেষভাবে মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নন-ট্যারিফ বাধাগুলো দূর করার জন্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও ভবিষ্যত পদক্ষেপ

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, যদিও পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে সরাসরি কথা হয়নি, তবে সরকার এই চুক্তি সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে। তিনি বলেন, "চুক্তির কোনো ধারা খারাপ মনে হলে তা নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ রয়েছে এবং সরকার এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।" বাণিজ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে এই চুক্তি একটি মাইলফলক হতে পারে, তবে সেটি নির্ভর করবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও সংশোধন প্রক্রিয়ার উপর।

সর্বোপরি, বাণিজ্যমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং চুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগানো হবে। তিনি বলেন, "আমরা চুক্তিটিকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছি এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে কাজ করব।"