ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল হামলাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা দিলেন সাইফুল হক
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই ধরনের সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন।
পশ্চিমা বিশ্বের মুখোশ উন্মোচনের অভিযোগ
সাইফুল হক তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, "হাস্যকর ও অযৌক্তিক অজুহাতে ইরানে দুটি সাম্রাজ্যবাদী দেশের যৌথ হামলা পশ্চিমা বিশ্বের কথিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মুখোশ সম্পূর্ণরূপে উন্মোচিত করেছে।" তার মতে, এই ঘটনা বিশ্ববাসীর সামনে পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রকৃত চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছে, যারা কেবল নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনে আগ্রহী।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দলের আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সমাবেশে তিনি মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক আগ্রাসন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতউল্লাহ খামেনিকে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন।
আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী তৎপরতার সমালোচনা
সাইফুল হক এই হামলাকে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান ও মানবিক মূল্যবোধকে উপেক্ষা করে একটি স্বাধীন দেশের ওপর এই সামরিক আক্রমণ এবং সাধারণ নাগরিক হত্যাকাণ্ডকে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।" তিনি এটিকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাথে তুলনা করেন এবং একবিংশ শতাব্দীতে এমন অপতৎপরতা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন।
সমাবেশে অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতি
এই বিক্ষোভ সমাবেশে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আরও বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বক্তব্য রাখেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন:
- রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান
- মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক
- কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম
- অরবিন্দু বেপারী বিন্দু
- মীর রেজাউল আলম
- কেন্দ্রীয় সংগঠক বাবর চৌধুরী
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল তোপখানা রোড, পুরানা পল্টন, বিজয়নগর হয়ে সেগুনবাগিচা অবস্থিত পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এই মিছিলে দলের সদস্য ও সমর্থকরা ইরানের প্রতি সংহতি এবং মার্কিন-ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
সাইফুল হক তার বক্তব্যে আরও জোর দিয়ে বলেন যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই ধরনের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা। তিনি বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সকল রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা সম্মান করার আহ্বান জানান।
