যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার জন্য সৌদি আরব গোপনে চাপ দিচ্ছিল— এমন অভিযোগ সম্বলিত ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনকে সরাসরি নাকচ করেছে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সৌদি দূতাবাস। দূতাবাসের মুখপাত্র ফাহাদ নাজার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষে সৌদি আরব
ফাহাদ নাজার তার বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে সব সময়ই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগেই প্রেসিডেন্টকে ভিন্ন নীতি গ্রহণের জন্য লবিং করা হয়নি।
সামরিক সংঘাত এড়ানোর অবস্থান
সৌদি মুখপাত্র আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাত এড়াতে যেসব দেশ কাজ করছে সৌদি আরব তাদের অন্যতম। সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার অবস্থান আগেই প্রকাশ করেছে রিয়াদ। এই প্রসঙ্গে তিনি ২৬ জানুয়ারির একটি ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
সেই দিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলায় সৌদি আরবের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর।
ইরানের পাল্টা হামলা ও আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে হামলা শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) প্রতিটি দেশকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ পর্যায়ের বহু কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এক যৌথ বিবৃতি দেয়।
যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সমালোচনা
এই যৌথ বিবৃতিতে অঞ্চলটির দেশ ও বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার জন্য ইরানের কঠোর সমালোচনা করা হয়। সৌদি আরবের দূতাবাসের বক্তব্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা যায়।
ফাহাদ নাজারের এই বিবৃতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সৌদি আরবের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
