চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বললেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বলপ্রয়োগের বিরোধিতা করে চীন
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বলপ্রয়োগের বিরোধিতা

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বললেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বলপ্রয়োগের বিরোধিতা করে চীন

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, চীন সর্বদা জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা সমুন্নত রাখে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বলপ্রয়োগের বিরোধিতা করে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, কোনো সার্বভৌম দেশের নেতাকে ‘লজ্জাহীনভাবে’ হত্যা করা এবং সরকার পরিবর্তনের প্ররোচনা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ইরানে হামলার বিষয়ে চীনের অবস্থান

ওয়াং ই আরও যোগ করেছেন, ‘চলমান আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।’ ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেছে। দূতাবাসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘন করে।

চীন এই সংঘাত এখন পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সতর্ক করে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি একটি বিপজ্জনক গহ্বরের কিনারায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে চীনের অবস্থান স্পষ্ট করতে দূতাবাস তিনটি মূল বিষয় তুলে ধরেছে।

চীনের প্রস্তাবিত তিনটি পদক্ষেপ

  1. সামরিক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রোধ করতে সংঘাতের বিস্তার ও বৃদ্ধি এড়ানো জরুরি। চীন উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের সংযম পালনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।
  2. সকল পক্ষকে দ্রুত আলোচনা ও সংলাপে ফিরে আসতে হবে: শান্তি প্রচার করতে হবে, যুদ্ধ নিরুৎসাহিত করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে বিলম্ব না করে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে উৎসাহিত করতে হবে।
  3. একতরফা পদক্ষেপের যৌথ বিরোধিতা করতে হবে: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তির ভিত্তিকে দুর্বল করে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত ‘জঙ্গলের আইনের’ বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠস্বর তোলা।

চীনের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বানকে প্রতিফলিত করে। ওয়াং ই-এর বক্তব্য বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা প্রশমনে চীনের কূটনৈতিক ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে।