আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘাত প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য: 'যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গল আনবে না'
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি এই পরিস্থিতিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে চলার কথা জানিয়েছেন।
শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সৌদি আরব থেকে ফিরে এসে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা এখনই প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কিছু বলছি না। আমরা আমাদের মতো করে বন্ধুদের বোঝানোর চেষ্টা করছি, যে এ ধরনের যুদ্ধ কারও জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে না। এর বাইরে কিছু বলার নাই।' তার এই মন্তব্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়।
ওআইসি বৈঠকে প্যালেস্টাইন ইস্যুতে অটল অবস্থান
ওআইসি বৈঠক প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'প্যালেস্টাইন প্রশ্নে আমাদের অবস্থান দ্ব্যার্থহীন এবং কোনোভাবে কোনও পরিবর্তন হবে না।' বাংলাদেশের এই দৃঢ় অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্যালেস্টাইন ইস্যুতে তার অঙ্গীকারেরই স্বাক্ষর বহন করে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে ওআইসি নেতৃবৃন্দদের সমর্থন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, 'আমাদের বিবেচনায় ছিল দুটো বিষয় যে, ৪০ বছর পর আবার আমরা এই পদে নির্বাচিত হওয়ার একটা সুযোগ পাচ্ছি। আর এই অঞ্চলের দেশ হিসাবে এই অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষা আমাদের একটা প্রধান দায়িত্ব।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের স্বার্থ যদি এই অঞ্চলের দেশগুলো না দেখে বাইরে থেকে কেউ এসে দেখবে না। এই দুটো বিবেচনায় ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের সময় প্রার্থিতা দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে ৪১তম জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ন রশিদ চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশের প্রার্থী এবং সেই রীতি অনুযায়ী ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের ফরেন অ্যাডভাইজার তৌহিদ হোসেনকে প্রার্থিতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও নতুন প্রক্রিয়া
গত সেপ্টেম্বর মাসে এটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে, প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থিতা বজায় রাখবে, তখন বাংলাদেশ তার প্রার্থিতাকে সাসপেনশনে রাখে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের একটা আশঙ্কা ছিল যেহেতু প্যালেস্টাইন জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য নয় সেহেতু হয়তোবা একসময় তারা প্রার্থী উইথড্র করতে পারে।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'সে অবস্থাতে এশিয়া অঞ্চল থেকে আমাদের প্রার্থিতা বজায় রাখা দরকার ছিল এবং আমাদের সে আশঙ্কা অনুযায়ী বা অনুমান অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত কয়েকদিন আগে প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থীতা তুলে নিয়েছে, প্রত্যাহার করেছে এবং আমাদের প্রার্থিতা অটোমেটিকলি, এটা তো আমরা তুলে নিইনি। সরকার বদল হয়েছে প্রার্থী বদল হয়েছে, তৌহিদ সাহেব উনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ছিলেন এখন আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে অটোমেটিক আমার নাম এসেছে।'
চ্যালেঞ্জ ও ওআইসি দেশগুলোর সমর্থন
ড. খলিলুর রহমান বলেন, 'আমাদের একটা চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যে সাইপ্রাস সারা বছর জুড়ে প্রচার করেছে। আমাদের হাতে মাত্র আছে তিন মাস বা তার চেয়ে কম। তো এই অবস্থাতে আমাদের প্রধান একটা উপযোগ্য বিষয় ছিল যে, এই অল্প সময়ে আমরা কতটুকু পথ অতিক্রম করতে পারবো নিশ্চিত জয়ের জন্য এবং সেটা বোঝার জন্য আমরা আমাদের ওআইসি বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি।'
তিনি উল্লেখ করেন, 'আমরা তাদের কাছ থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি, জোর সমর্থন পেয়েছি এবং তারা বলেছেন যে তারা শুধু আমাদেরকে সমর্থনই করবেন না, আমাদের প্রার্থিতার পক্ষে তারা সারাবিশ্বে প্রচারণা চালাবেন।' এই সমর্থন বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন।
