ভিসা স্বাভাবিকীকরণে কাজ করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: শামা ওবায়েদ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও স্বাভাবিক করতে তার মন্ত্রণালয় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং দেশটির হাইকমিশনার আসছেন, যার মাধ্যমে ভিসা কার্যক্রমে ইতিবাচক অগ্রগতি আশা করা যাচ্ছে।
ভিসা প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি
শামা ওবায়েদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, "ভারতের হাইকমিশনার আসছেন এবং ওনারা ইতিবাচক যেন ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে যায়, সেই দিকে নজর দিচ্ছেন।" তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করতে চায় যেন বাংলাদেশের নাগরিকরা ভারত ভ্রমণে সুবিধা পায় এবং এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।
ফরিদপুরে ইফতার মাহফিলে বক্তব্য
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী, সোনাপুর ও যদুনন্দী ইউনিয়নে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে ফুলবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ। এই অনুষ্ঠানে তিনি ভিসা বিষয়ক তথ্য ছাড়াও স্থানীয় উন্নয়ন ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্বাচন পরবর্তী সময়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, "আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে এবং শান্তিপূর্ণ অবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দল বা পক্ষের নামে মারামারি ও কোন্দল বন্ধ করে উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।"
তিনি আরও যোগ করেন যে, মারামারির ফলে হাসপাতালে যাওয়া বা মামলা-হামলার মতো ঘটনাগুলো এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে কোনো লাভ হয় না। পরিবর্তে, বল্লভদী, যদুনন্দী, সোনাপুর ও সমগ্র উপজেলার উন্নয়নে কাজ করা প্রয়োজন, বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি, রাস্তাঘাট মেরামত এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুযোগ সৃষ্টির দিকে নজর দিতে হবে।
জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার
শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আজকে আমি এখানে এমপি-মন্ত্রী হিসেবে আসিনি, বরং আপনাদের সন্তান হিসেবে কথা বলছি। আমৃত্যু পর্যন্ত আপনাদের পাশে থাকতে চাই।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, তিনি শুধু বিএনপির এমপি নন, বরং অত্র এলাকার সব মানুষের প্রতিনিধি, এবং তার বাবা এম ওবায়দুর রহমানের মতোই তিনি স্থানীয় জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।
তিনি আশ্বাস দেন যে, ভোটার বা অ-ভোটার নির্বিশেষে সবাইকে সমানভাবে সহযোগিতা করবেন এবং এলাকার উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এই অঙ্গীকারের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সম্প্রীতি ও অগ্রগতির প্রতি তার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
