সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফর
সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রিয়াদ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জেদ্দায় ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ফিলিস্তিনবিষয়ক নির্বাহী সভার সাইড লাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আমন্ত্রণ ব্যক্ত করেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগের সুযোগ
সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল এলখেরেজি একই বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকেও রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগের কথা উল্লেখ করেন। বৈঠকে রিয়াদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশীদারিত্বের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়।
ড. খলিলুর রহমান বৈঠকে জানান, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব ওআইসি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে যৌথ উদ্যোগ নেবে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যারা
জেদ্দায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন:
- প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির
- পররাষ্ট্র সচিব মোল্লা ফারহাদ হোসেন
- ওআইসিতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম. জে. এইচ. জাবেদ
এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা ও গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। বৈঠকে বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা চিহ্নিত করা হয়।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
ওআইসির ফিলিস্তিনবিষয়ক নির্বাহী সভার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় দুই দেশের ভূমিকারও প্রতীক হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে অনুষ্ঠিত এই সভা মুসলিম বিশ্বের একতাবদ্ধতা ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে সমন্বিত অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌদি সফর এবং সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
