ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করব না, শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তির অধিকার আছে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার দেশ কোনো পরিস্থিতিতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। এই বিষয়ে ইরানের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়ার অধিকার ইরানের জনগণের আছে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা প্রকাশ করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তির কাছাকাছি ইরান
আরাঘচি জানিয়েছেন, সংঘাত এড়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে তেহরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে তিনি এই মন্তব্য করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চলমান হুমকির প্রেক্ষিতে আরাঘচি বলেন, একটি অভূতপূর্ব চুক্তিতে পৌঁছানোর ঐতিহাসিক সুযোগ সামনে রয়েছে। এই চুক্তি নির্ভর করছে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে কিনা তার উপর।
ওমানের মধ্যস্থতায় তৃতীয় দফার আলোচনা
ওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে পরোক্ষ আলোচনা। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে এটি তৃতীয় দফার আলোচনা হিসেবে চিহ্নিত। ওমান জানিয়েছে, চুক্তিটি চূড়ান্ত করার জন্য আরও একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশা করছে তারা। ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন আরাঘচি, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
ট্রাম্পের যুদ্ধাত্মক বক্তব্য
এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটনে তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও তেহরানের প্রতি যুদ্ধাত্মক সুরে কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কূটনীতির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা আমার পছন্দ। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত, আমি কখনই বিশ্বের এক নম্বর ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক দেশকে’, পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করতে দেব না।’ এই মন্তব্য ইরানের সাথে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সামগ্রিকভাবে, ইরানের দৃঢ় অবস্থান হলো পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ না করা, কিন্তু শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তির অধিকার বজায় রাখা। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা চলমান রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
