জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রস্তাব
জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক, কর্মসংস্থানে সহযোগিতা

জাপানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক: কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল সহযোগিতা জোরদার

নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই বৈঠকে রাষ্ট্রদূত সাইদা দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে ড. রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আমন্ত্রণ প্রদান করেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সহযোগিতা

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে কর্মসংস্থান দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি (ইএসডিপি)-এর আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আলোচনায় জাপানে কর্মসংস্থানে আগ্রহী বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ জোরদারের বিষয়টি প্রাধান্য পায়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তথ্যপ্রবাহের সহজপ্রাপ্যতার গুরুত্ব তুলে ধরে একটি উদ্ভাবনী প্রস্তাব দেন। তিনি জাপানি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের সংযুক্ত করতে একটি ডিজিটাল ম্যাচমেকিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরামর্শ প্রদান করেন, যা কর্মসংস্থান প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সহায়ক হবে।

উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকটে সহযোগিতা

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, উপদেষ্টা মাহদি আমিন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। এর আগে জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গেও একটি পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ পরিচালনা করেন।

ওই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও উন্নত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য প্রশংসা ব্যক্ত করেন, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশেষত কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে।