বাংলাদেশ-সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন প্রতিশ্রুতি: সিইপিএ ও শ্রমিক সুবিধা আলোচনায়
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি ব্যাপক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলি আল হামুদির সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন মাত্রা
বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রম গতিশীলতা এবং উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন করে জোর দেওয়া হচ্ছে।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় অগ্রগতি
সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর শুভেচ্ছার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি ব্যাপক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে উন্নীত করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সিইপিএ চুক্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্র
আলোচনায় প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার ওপর আলোকপাত করা হয়। এছাড়াও, বাণিজ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) প্রকল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়।
শ্রমিক সুবিধা ও ভিসা সহজীকরণ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বিজনেস ও ট্রানজিট ভিসাসহ যাতায়াত আরো সহজ করার পাশাপাশি শ্রম ভিসা পুনরায় চালুর অনুরোধ জানান, যা শ্রম গতিশীলতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ জোরদার
পারস্পরিক সুবিধার জন্য বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে এবং দুই দেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ। এই উদ্যোগ সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উচ্চ পর্যায়ের সফর ও নিয়মিত বৈঠকের গুরুত্ব
এর আগে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে এবং নতুন সুযোগ তৈরি করতে উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার নিয়মিত বৈঠক করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এই বৈঠকগুলো বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো মজবুত করার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের জন্য ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
