ইসরায়েল সফরে মোদির ভাষণ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক, বিরোধী দলের বর্জনের হুমকি
মোদির ইসরায়েল সফরে ভাষণ নিয়ে বিতর্ক, বিরোধী দলের হুমকি

ইসরায়েল সফরে মোদির ভাষণ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক, বিরোধী দলের বর্জনের হুমকি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ইসরায়েল সফর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রার উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আগামী বুধবার দুই দিনের এই সফরে মোদি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেবেন এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তবে এই সফরের প্রস্তুতিতে একটি বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ না জানানোর প্রশ্ন।

বিরোধী দলের কঠোর হুমকি

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যদি নেসেটে মোদির ভাষণের সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি আইজ্যাক অমিতকে আমন্ত্রণ না জানানো হয়, তাহলে বিরোধী দল এই অনুষ্ঠান বর্জন করবে। লাপিদ জোর দিয়ে বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অধিবেশনে জোট সরকার যদি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বর্জন করে, তাহলে আমরা সেই আলোচনায় অংশ নিতে পারব না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে নেসেট অর্ধেক খালি থাকতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করবে।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব

এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে ইসরায়েলের গভীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন। বিচার বিভাগীয় সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক দেশটির জনগণকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আইজ্যাক অমিত সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও, আইনমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন তাঁকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছেন। এর ফলে সরকারি গেজেটে এখনো তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং নেসেটের বিভিন্ন আয়োজন থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

স্পিকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া

নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা বিরোধী দলের এই হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, লাপিদ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে গিয়ে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের ক্ষতি করছেন। ওহানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ যদি বিশ্বের অন্যতম প্রধান শক্তি এবং আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষতি করতে চান, তবে সেটি তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত পছন্দ।’ তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন লাপিদ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বা আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের ভাষণের সময় বর্জনের পথ বেছে নেননি।

বিরোধী দলের যুক্তি ও দাবি

লাপিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা বর্জনের ডাক দিচ্ছেন না, বরং সরকারকে প্রটোকল মেনে চলার অনুরোধ করছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘আমরা কেবল প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারকে অনুরোধ করছি, যেন প্রটোকল অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।’ লাপিদ আরও বলেন, এই পরিস্থিতি ভারতীয় দূতাবাসকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, এবং তিনি চান না যে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে নেসেট অর্ধেক খালি থাকুক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সম্ভাব্য প্রভাব

এই বিতর্ক ইসরায়েল-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মোদির সফরটি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘাত এই সফরের পরিবেশকে জটিল করে তুলতে পারে। বিরোধী দল জোর দিয়ে বলছে, তারা দেশের মর্যাদা বা প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না, বরং সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে।

সর্বোপরি, এই ঘটনা ইসরায়েলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আগামী দিনগুলোতে কীভাবে এই সংকটের সমাধান হয়, তা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।