দিল্লিতে মাহদী হাসানের ভিসা আবেদন ও নারীর উপস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য
দিল্লিতে মাহদী হাসানের ভিসা আবেদন ও নারী নিয়ে তথ্য

দিল্লিতে মাহদী হাসানের ভিসা আবেদন ও নারীর উপস্থিতি নিয়ে নতুন তথ্য

বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গিয়েছিলেন পর্তুগালের ভিসা নেওয়ার জন্য। দিল্লিতে থাকাকালীন তার সঙ্গে এক নারী আত্মীয়ও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিসা কেন্দ্রে ভিডিও রেকর্ড ও চিহ্নিত হওয়ার ঘটনা

মঙ্গলবার সকালে দিল্লির কনট প্লেসে একটি বেসরকারি সংস্থার দপ্তরে মাহদী হাসানকে প্রথম দেখা যায়, যেখানে তার পাশে ওই নারী বসেছিলেন। এই সংস্থাটি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের হয়ে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করে থাকে। অপেক্ষার সময়ে কেউ মাহদী হাসানের ভিডিও রেকর্ড করে নেয়, যদিও ভিডিওধারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

ভিডিও রেকর্ডকারী ব্যক্তি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মাহদী হাসানকে চিহ্নিত করা যায় এবং এরপরই তার কাছে ভারতীয় ও বাংলাদেশের বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসতে শুরু করে। এই ফোনগুলো তাকে চিন্তিত করে তোলে, এবং কর্মকর্তারা তার ওপর নজরদারি শুরু করেন।

দিল্লিতে আশ্রয় সন্ধান ও ঢাকায় প্রত্যাবর্তন

একটি সূত্র অনুযায়ী, মাহদী হাসান ভিসা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে পুরানো দিল্লির জামা মসজিদ এলাকায় গিয়েছিলেন। পরে বাংলাদেশ থেকে কেউ তাকে জানায় যে সে চিহ্নিত হয়ে গেছে, যা তাকে আশ্রয়ের সন্ধানে দিল্লির কয়েকটি স্থানে নিয়ে যায়, কিন্তু কেউই তাকে থাকতে দিতে রাজি হয়নি।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে মাহদী হাসান ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, এবং মাহদী অভিযোগ করেন যে তিনি ভারতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

ভিসা প্রক্রিয়া ও পরিকল্পনা

পর্তুগালের ভিসা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের দিল্লিতে আসতে হয়, যার জন্য ভারতীয় ভিসা প্রয়োজন। জানা গেছে, বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাস মাহদী হাসানকে ভিসা দিয়েছিল। মাহদী এবং তার সঙ্গে আসা নারী নয়াদিল্লি রেল স্টেশনের কাছাকাছি পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করেছিলেন।

বিবিসি বাংলার সূত্র জানায়, মাহদী হাসান দিল্লি থেকেই ভিসা নিয়ে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তার সঙ্গে থাকা নারীটি তার আত্মীয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যদিও বিস্তারিত সম্পর্ক প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনাটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।