ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে আজ যথাযথ মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালোব্যাজ ধারণ করেন এবং একটি অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন ও আনুষ্ঠানিকতা
হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিশুদের নিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় সমবেত কণ্ঠে সবাই ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটি গেয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ করেন। দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্ধনমিত রাখা হয় এবং ব্যানার, বাংলা বর্ণমালা ও ভাষা দিবসের পোস্টারে সুসজ্জিত করা হয়।
বাণীপাঠ ও আলোচনা সভা
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এছাড়া ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি খোন্দকার এম. তালহা-এর ভিডিও বাণী প্রদর্শন করা হয়। হাইকমিশনার তার সমাপনী বক্তৃতায় ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম ও এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ভাষাভিত্তিক একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের ভিত্তি রচিত হয়েছিল।”
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ
আলোচনার পর ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। বিকালে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোররা অংশগ্রহণ করে। বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, ভিডিওচিত্র প্রদর্শন এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভাষা শহীদদের স্মরণে একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে, যা মাতৃভাষার মর্যাদা ও জাতীয় ঐক্যকে তুলে ধরে।
