ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে অ্যান্ড্রুকে অপসারণের উদ্যোগ
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে জড়িত ব্রিটিশ রাজ পরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে অপসারণের জন্য আইন বিল আনার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে চলমান পুলিশি তদন্ত এবং ব্যাপক জনসমালোচনা।
পুলিশি তদন্ত ও সরকারের অবস্থান
ইতোমধ্যে অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্বে থাকাকালে অসদাচরণের অভিযোগে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে ১১ ঘণ্টা হেফাজতে রাখার পর মুক্তি দেওয়া হলেও তদন্ত এখনও চলমান। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লুক পোলার্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "তদন্তের ফলাফল যাই হোক না কেন, অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আইন করা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।"
পোলার্ড আরও উল্লেখ করেছেন যে সরকার বাকিংহাম প্রাসাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অ্যান্ড্রুকে "সিংহাসনের নিকটতম অবস্থান থেকে অনেক দূরে পাঠাতে" কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে পার্লামেন্টে এমন আইন উত্থাপিত হলে তা সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন পাবে, যদিও তিনি এও যোগ করেন যে পুলিশি তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
অ্যান্ড্রুর বর্তমান অবস্থান ও অতীত ইতিহাস
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে গত অক্টোবরেই অ্যান্ড্রু তার "প্রিন্স" খেতাবসহ সব রাজকীয় উপাধি হারিয়েছেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, তিনি এখনও ব্রিটিশ সিংহাসনের দাবিদারদের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়ে গেছেন। ২০১৯ সালেই এপস্টেইন সংক্রান্ত এক সাক্ষাৎকারের পর তুমুল সমালোচনার মুখে অ্যান্ড্রু সরকারি সব দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন।
শুক্রবারও উইন্ডসরের ৩০ কক্ষবিশিষ্ট রয়্যাল লজে লগোবিহীন পুলিশের গাড়ি ও ভ্যান যাতায়াত করতে দেখা গেছে, যেখানে অ্যান্ড্রু দীর্ঘ বছর বসবাস করেছেন। বাসভবনের বাইরে ২০টির বেশি গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় দেখা গেলেও সবগুলোই তদন্ত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টেমস ভ্যালি পুলিশের ধারণা, তারা সোমবার পর্যন্ত রয়্যাল লজে তল্লাশি চালাবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও আইনি প্রক্রিয়া
বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও এসএনপি দলের আইনপ্রণেতারা অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তাদের সমর্থনের ইঙ্গিত দেওয়ার পরই সরকারের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়টি সামনে আসে। তবে কিছু লেবার সাংসদ এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাদের যুক্তি, উত্তরাধিকারের বর্তমান তালিকায় সাবেক ডিউক অব ইয়র্ক এমনিতেই সিংহাসনের ধারে কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পান না, তাই এই আইনের কোনো কার্যকর প্রভাব থাকবে না।
আইনটি কার্যকর করতে হলে প্রথমে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের দুই কক্ষে অনুমোদন পেতে হবে, এরপর রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্মতি লাগবে।更重要的是, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জ্যামাইকা, নিউ জিল্যান্ডসহ কমনওয়েলথভুক্ত সেই ১৪টি দেশেরও সমর্থন প্রয়োজন হবে, যেখানে রাজা চার্লস রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে আছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বশেষ ১৯৩৬ সালে আইন করে সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকা থেকে কাউকে অপসারণ করেছিল। স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ করায় সেবার অষ্টম এডওয়ার্ড ও তার বংশধরদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। অক্টোবরে ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে উত্তরাধিকার তালিকায় পরিবর্তন আনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান বদলেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
অ্যান্ড্রু নিজে অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং জোরের সঙ্গে দাবি করছেন যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তবে সরকার ও রাজপরিবারের সমন্বিত প্রচেষ্টা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি বড় পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাজ্য।
