প্রথম আলো ভবনে 'আলো' প্রদর্শনীর উদ্বোধন: বিদেশি কূটনীতিকদের জোরালো সংহতি
গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ভবনে ব্যতিক্রমী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো' আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বসন্তের রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিকরা অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
কূটনীতিকদের উপস্থিতি ও সংহতি প্রকাশ
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়েগা ওচহোওয়া দি চিনচিত্রু, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত বোরিস ভ্যান বোমেল, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্ট জিও ভানেতি, আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা এবং সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি প্রদর্শনীতে উপস্থিত থেকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
ইউএনডিপি, ইউনেসকো, ইউএন উইমেন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের ঢাকা দপ্তরের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মাইকেল মিলার তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'আমরা গণমাধ্যমের ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। গণমাধ্যমকর্মীরা গণতন্ত্রের সুরক্ষায় নির্ভীক।'
শিল্পী মাহবুবুর রহমানের শিল্পকর্ম: ধ্বংস থেকে সৃষ্টির বার্তা
প্রদর্শনীতে শিল্পী মাহবুবুর রহমানের শিল্পকর্ম স্থাপন করা হয়েছে, যা গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রথম আলো ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন প্রাণশক্তির উত্থানের বিষয়টি নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করে। শিল্পী তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'আমি এই ধ্বংসস্তূপের ভেতর নতুন প্রাণশক্তির উত্থানের বিষয়টি তুলে ধরতে চেয়েছি। দগ্ধ বস্তুগুলো যেন এই কর্মস্থলের প্রাণস্পন্দন ও যন্ত্রণার কথা বলে।'
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা
অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম উপস্থিত ছিলেন। মাহফুজ আনাম বলেন, 'এই আগুন কেবল ভবনে নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও চিন্তার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। এটি একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পিত হামলা।' তিনি নতুন সরকারের কাছে ঘটনাটির গভীর তদন্তের আহ্বান জানান।
নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, 'পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের প্রস্তুতি নিতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।' জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ নতুন সরকারের কাছে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
প্রদর্শনীর সময়সূচি ও অতিথিবৃন্দ
প্রদর্শনীটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এবং সর্বস্তরের দর্শকদের জন্য প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। অনুষ্ঠানে ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, সাবেক উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল করিম খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, আইনজীবী সারা হোসেনসহ গণমাধ্যম ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, 'এই প্রদর্শনী আমাদের কথা বলার অধিকারে সোচ্চার থাকার প্রেরণা জোগাবে।' প্রদর্শনী শেষে বিদেশি কূটনীতিকরা শিল্পকর্ম ঘুরে দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এটিকে বিশ্বমানের বলে মন্তব্য করেন।
