ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের বিখ্যাত বিড়াল পামারস্টনের বারমুডায় শান্তিপূর্ণ মৃত্যু
ব্রিটেনের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসের প্রিয় বিড়াল পামারস্টন বারমুডায় শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সাদা-কালো রঙের এই বিড়ালটি লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তা থেকে শুরু করে ব্রিটিশ ফরেন অফিসের করিডরে ঘুরে বেড়াত, ধীরে ধীরে যুক্তরাজ্যের অন্যতম 'ডিপ্লোক্যাট' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল।
উদ্ধার থেকে দায়িত্ব: একটি অনন্য যাত্রা
২০১৬ সালে লন্ডনের ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম থেকে পামারস্টনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। এরপর তাকে ব্রিটেনের ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে 'চিফ মাউসার' হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সময়টি ছিল ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত টালমাটাল, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার গণভোটের আগে-পরে নানা রাজনৈতিক ঘটনা ঘটছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে দপ্তরে যোগ দিয়ে পামারস্টন দ্রুত সবার মন জয় করে নেয়।
ঊনবিংশ শতাব্দীর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী ভিসকাউন্ট পামারস্টনের নামে এই বিড়ালটির নামকরণ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে। ওয়েস্টমিনস্টারের করিডর থেকে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে হাঁটাহাঁটির ছবি নিয়মিত ভাইরাল হতো, যার ফলে বিড়ালটির ফলোয়ারের সংখ্যা একসময় এক লাখের কাছাকাছি পৌঁছায়।
দায়িত্ব ও অবদান: শুধু ইঁদুর ধরাই নয়
ফরেন অফিসে পামারস্টনের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল ইঁদুর ধরা। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম ইঁদুর ধরার খবর প্রকাশ্যে আসে। তবে এই বিড়ালটি শুধু দক্ষ 'মাউসার'ই ছিল না, মানবিক কাজেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। বিশেষ করে, উদ্ধারকেন্দ্র ব্যাটারসিয়ার জন্য তিন হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে পামারস্টন, যা তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের প্রমাণ দেয়।
২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিড়ালটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেয়। একটি মজার চিঠির মাধ্যমে তাকে জানানো হয় যে, এখন একটু আড়ালে থেকে বিশ্রাম নেওয়ার সময়। কিন্তু এই অবসর বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০২৫ সালে নতুন দায়িত্ব তাকে আবার আলোচনায় নিয়ে আসে, যখন ব্রিটিশ গভর্নর অ্যান্ড্রু মুরডোচ বারমুডায় দায়িত্ব নেন এবং পামারস্টনও গভর্নমেন্ট হাউসে যোগ দেয়।
বারমুডায় শেষ দিনগুলো: আনন্দ ও সেবা
এরপর লন্ডনের ধূসর আকাশ ছেড়ে পামারস্টন পাড়ি জমায় আটলান্টিকের দ্বীপপুঞ্জ বারমুডাতে। সেখানে তার শেষ দিনগুলো কেটেছে বেশ আনন্দ ও সক্রিয়তায়। সে নিয়মিত খেলাধুলা করত এবং বিদেশি কূটনীতিকদের 'স্বাগত' জানানোর মতো দায়িত্ব পালন করত, যা তার কূটনৈতিক ভূমিকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল।
ব্রিটেনের আরেক বিখ্যাত 'চিফ মাউসার' ল্যারির সঙ্গে পামারস্টনের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্পর্ক ছিল, যা প্রায়ই মিডিয়ার শিরোনাম হতো। এই সম্পর্ক দুটি বিড়ালের জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে দিয়েছিল, যুক্তরাজ্যের সরকারি দপ্তরে তাদের উপস্থিতিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছিল।
পামারস্টনের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণীর প্রস্থান নয়, বরং ব্রিটিশ ইতিহাসের একটি অনন্য অধ্যায়ের সমাপ্তি। তার জীবন ও কাজ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক যোগাযোগের শক্তি এবং প্রাণীদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।
