বিএনপি সরকারের নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হলেন ড. খলিলুর রহমান
বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

বিএনপি সরকারের নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হলেন ড. খলিলুর রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়েছে। এই মন্ত্রিসভায় জাতীয়তাবাদী দলটির জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও দায়িত্ব পেয়েছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ড. খলিলুর রহমান

নতুন মন্ত্রিপরিষদের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিয়োগ হলো বিশিষ্ট কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদ ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান। তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নির্বাচিত সরকার গঠনের পর সেই সরকার বিলুপ্ত হলেও, ড. খলিলুর রহমান বিএনপি সরকারে টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, যা দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ড. খলিলুর রহমানের পেশাগত জীবন

ড. খলিলুর রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭৯ সালে সিভিল সার্ভিসে যোগদানের মাধ্যমে। প্রাথমিকভাবে তিনি দক্ষিণ এশিয়া বিভাগ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে যোগ দেন, যেখানে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মুখপাত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর নিউইয়র্ক ও জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদে তিনি কর্মরত ছিলেন। ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন এবং ফ্ল্যাগশিপ প্রকাশনার প্রধান রচয়িতা হিসেবে স্বীকৃত।

২০০১ সালে ব্রাসেলস সম্মেলনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কর্মসূচি পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে তার নেতৃত্ব উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, তিনি ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবেও তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ভূমিকা

ড. খলিলুর রহমান রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলির জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের হাইরিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এই সময়ে তিনি উপদেষ্টার মর্যাদা এবং সংশ্লিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। পরবর্তীতে তাকে একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদেও নিয়োগ দেওয়া হয়, যা তার বহুমুখী দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটায়।

নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে তার নিয়োগ দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করছেন। তার সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্ব বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।