বিএনপির পররাষ্ট্রনীতিতে বাংলাদেশের স্বার্থই অগ্রাধিকার: তারেক রহমান
বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ সকল দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছে। শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই নীতি স্পষ্ট করেছেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও সার্ক পুনর্জীবন
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থকে রক্ষা করে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবো।” সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে বিএনপি সরকার কাজ করবে কি না এমন প্রশ্নে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “সার্ক প্রতিষ্ঠা করা কিন্তু বাংলাদেশের উদ্যোগ ছিলো। আমরা চাই, এটি সচল হোক। আমরা আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবো, আমরা চেষ্টা করবো সার্ককে পুনর্জীবিত করতে।”
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ও বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করবো। যদি এমন কিছু থাকে যা বাংলাদেশের পক্ষে হবে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা তা করতে পারি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “পারস্পরিক স্বার্থই প্রথম অগ্রাধিকার, যা আমরা অনুসরণ করবো।” বেল্ট অ্যান্ড রোড বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি তা বাংলাদেশের উপকারে আসে, অর্থনীতির সহায়ক হয়, আমরা তখন সিদ্ধান্ত নেবো।”
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও সুশাসনের অঙ্গীকার
সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মূলত কি কি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে এমন প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের অর্থনীতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে, দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিগত সরকার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করেছে। সুতরাং আমাদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।”
ভঙ্গুর অর্থনীতি, নিম্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতি কমাতে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “আমরা নতুন নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আসবো এবং কর্মসংস্থান তৈরি করবো।” সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মানুষ আমাদেরকে সমর্থন দিয়েছে, আমরা অবশ্যই তরুণদের কথা শুনবো। কিন্তু, এই সমাজে আরও মানুষও তো আছে। সবারই কোনও না কোনও ইস্যু আছে, আমাদেরকে সবার কথা শুনতে হবে।”
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রত্যর্পণ বিষয়
শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণ চাইবে কি না এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, “সেটা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।” চীন প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তারা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার মতো জায়গা আমরা অবশ্যই তৈরি করবো।”
এই সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বিএনপির ভবিষ্যৎ পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
