ট্রাম্পের আহ্বান: নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলা থেকে ক্ষমা চান, হার্জগের সমালোচনা
ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ক্ষমা চান, হার্জগের সমালোচনা

ট্রাম্পের জোরালো আহ্বান: নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলা থেকে ক্ষমা চান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাকে দুর্নীতির মামলা থেকে ক্ষমা দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন, যা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়েছে।

যুদ্ধকালীন নেতৃত্বের প্রশংসা ও ক্ষমার দাবি

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে নেতানিয়াহু একজন ‘দারুণ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে কাজ করেছেন এবং তার এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ দুর্নীতির অভিযোগ থেকে ক্ষমা পাওয়া উচিত। তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগের সমালোচনা করে আরও উল্লেখ করেন যে, নেতানিয়াহুকে এখনও ক্ষমা না দেওয়ায় ইসরায়েলের জনগণের উচিত হার্জগকে প্রকাশ্যে লজ্জা দেওয়া।

বুধবারের বৈঠক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু

বুধবার ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই নেতার মধ্যে এটি ছিল সপ্তম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা নির্দেশ করে।

হার্জগ দপ্তরের জবাব ও আইনি প্রক্রিয়া

রয়টার্স ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে জানতে চাইলে আইজ্যাক হার্জগের দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমা আবেদনটি বর্তমানে ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয়ে আইনি মতামতের জন্য পর্যালোচনাধীন রয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রেসিডেন্ট হার্জগ বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করবেন।

হার্জগ দপ্তরের বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, ইসরায়েল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র যা আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তার বিপরীতে প্রেসিডেন্ট হার্জগ এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি।

নেতানিয়াহুর ঐতিহাসিক মামলা ও বর্তমান অবস্থান

উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথম দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে ঘুষ, জালিয়াতি এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল। তবে নেতানিয়াহু বরাবরই এসব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করে আসছেন এবং তার আইনি লড়াই অব্যাহত রেখেছেন।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ক্ষমা দেওয়ার আহ্বান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত দিচ্ছেন।