এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ
এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ

কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার জেরে নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের বিরুদ্ধে ‘গুরুতর দুর্নীতির’ অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ ‘একোক্রিম’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাউন্সিল অব ইউরোপের সাবেক মহাসচিব হিসেবে জাগল্যান্ড যে কূটনৈতিক দায়মুক্তি ভোগ করতেন, তা সংস্থাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরপরই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তদন্তের সূত্রপাত ও অভিযোগের মূল বিষয়

মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক সম্প্রতি প্রকাশিত তথাকথিত ‘এপস্টাইন ফাইলস’-এর ওপর ভিত্তি করে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:

  • ই-মেইল রেকর্ড অনুযায়ী, এপস্টাইন শিশু যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও জাগল্যান্ড তার প্যারিস, নিউইয়র্ক এবং পাম বিচের বাড়িতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন।
  • অভিযোগ উঠেছে যে, এসব সফরের যাতায়াত ও ভ্রমণ ব্যয় এপস্টাইন নিজেই বহন করতেন। এমনকি ২০১৪ সালে এপস্টাইনের ব্যক্তিগত ক্যারিবীয় দ্বীপেও সপরিবারে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল জাগল্যান্ডের, যা পরবর্তীতে এপস্টাইন অসুস্থ হওয়ায় বাতিল হয়।
  • নরওয়ের সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে-র দাবি অনুযায়ী, জাগল্যান্ড একটি ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এপস্টাইনের সহায়তা চেয়েছিলেন। তবে এই সুবিধা তিনি শেষ পর্যন্ত পেয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

তল্লাশি ও আইনি প্রতিক্রিয়া

গত বৃহস্পতিবার নরওয়ের অসলোসহ রাইসর এবং রাউল্যান্ডে অবস্থিত জাগল্যান্ডের তিনটি সম্পত্তিতে তল্লাশি চালিয়েছে একোক্রিম। জাগল্যান্ডের আইনজীবী জানিয়েছেন, তার মক্কেল কোনো অপরাধের দায় স্বীকার করেননি এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নরওয়ের অন্যান্য প্রভাবশালীদের জড়িয়ে পড়া

জেফরি এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে নরওয়ের আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম জড়িয়ে পড়েছে:

  1. যুবরাজ্ঞী মেট-মারিট: এপস্টাইনের সঙ্গে তিন বছরের যোগাযোগের কথা সামনে আসায় তিনি নরওয়ের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
  2. মোনা জুল ও তেরজে রড-লারসেন: এই দুই কূটনীতিক দম্পতির বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে করা এক উইলে এপস্টাইন তাদের সন্তানদের প্রত্যেকের জন্য ৫০ লাখ মার্কিন ডলার রেখে গেছেন।
  3. বোর্জ ব্রেন্ডে: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রধান এবং নরওয়ের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রেন্ডের সঙ্গে এপস্টাইনের যোগাযোগের বিষয়ে সংস্থাটি একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছে।

পটভূমি ও বৈশ্বিক প্রভাব

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে কারাগারে ‘আত্মহত্যা’ করা জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা, রাজপরিবারের সদস্য এবং তারকাদের যোগাযোগ ছিল বলে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত লাখো মেইল ও এফবিআই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই কেলেঙ্কারি আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দেশে তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে।