দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনের ৭ বছরের কারাদণ্ড
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশকে সামরিক আইনের আওতায় আনার ব্যর্থ প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখার জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট এই রায় ঘোষণা করে, যা দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বিচারকের রায় ও অভিযোগের বিবরণ
৬১ বছর বয়সী লি সাং-মিনকে আদালত পুলিশ এবং দমকল সংস্থাগুলোকে মিডিয়া আউটলেটগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে বিদ্রোহে অংশ নেওয়ার জন্য দোষী সাব্যস্ত করেছে। বিচারক রিউ কিউং-জিন উল্লেখ করেন যে, লি প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের অভিশংসন কার্যক্রমের সময় এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছিলেন বলে অস্বীকার করে মিথ্যা শপথ করেছেন।
বিচারক তার রায়ে বলেন, ‘সরকারের সমালোচক গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে শারীরিক শক্তি প্রয়োগ জনসাধারণের বিদ্রোহবিরোধী মনোভাবকে দুর্বল করে দেয়, ফলে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা আরও সহজ হয়ে পড়ে।’ এই মন্তব্য সামরিক আইন জারির সময় গণমাধ্যম দমনের চেষ্টাকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরে।
বিশেষ প্রসিকিউটরদের দাবি ও লির অবস্থান
বিশেষ প্রসিকিউটররা গত মাসে লির বিরুদ্ধে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল যে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদ্রোহকে কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে লি এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করে আসছেন এবং তার আইনী দল আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
আদালত তার গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুমোদন করার পর থেকে গত আগস্ট মাস থেকে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। এই সময়ে তার বিচার কার্যক্রম তদন্ত ও প্রমাণ উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে।
পূর্ববর্তী মামলা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এর আগে জানুয়ারি মাসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সামরিক আইন ঘোষণায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে দণ্ডিত প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওলের মন্ত্রিসভার তিনি দ্বিতীয় সদস্য হিসেবে শাস্তি পেয়েছেন।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইওল সামরিক আইন জারি করেছিলেন, যা দেশকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দেয় বলে বিবেচিত হয়। তবে তীব্র প্রতিবাদের মুখে সামরিক আইন জারির মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি।
এই ঘটনার জেরে ১৪ ডিসেম্বর ইউনকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরের বছর ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়, যার আগে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীকে দিয়ে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
এই মামলাগুলো দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আদালতের রায়গুলি দেখায় যে, দেশটির বিচার বিভাগ সংবিধান ও আইনের শাসন রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিচ্ছে।
লি সাং-মিনের শাস্তি দেশটিতে উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদদের জবাবদিহিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যেও দক্ষিণ কোরিয়ার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
