ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় নির্বাচনে বড় বিপর্যয়ের পর নিজ দলের সংসদ সদস্যদের ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে অন্তত ৭০ জন এমপির পদত্যাগের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ছেন না তিনি।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমারের বক্তব্য
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে স্টারমার বলেন, ‘লেবার পার্টিতে নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।’
সোমবার সকালেই স্টারমার একটি ভাষণ দেন, যাকে অনেকেই তার প্রধানমন্ত্রিত্ব টিকিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এরপরই তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সরকারের এক জুনিয়র মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।
এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি, উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের মতো প্রভাবশালী মন্ত্রীরাও স্টারমারকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর ও সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য উত্তরসূরি
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতা পরিবর্তনের জন্য অন্তত ২০ শতাংশ বা বর্তমানে ৮১ জন এমপির লিখিত সমর্থন প্রয়োজন। বিরোধীরা এখনও সেই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি এবং স্টারমারের বিকল্প হিসেবে একক কোনও নেতার নাম নিয়েও ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে।
পদত্যাগের দাবি নাকচ করে স্টারমারের যুক্তি
পদত্যাগের দাবি নাকচ করে স্টারমার যুক্তি দিয়েছেন, এই মুহূর্তে নেতা পরিবর্তন করলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। কনজারভেটিভ আমলের ১৪ বছরে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের ফলে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছিল, তার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এমন অস্থিতিশীলতা কাম্য নয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বিশাল জয় এনে দিয়েছিলেন কিয়ার স্টারমার। তিনি দাবি করেছেন, ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশু দারিদ্র্য হ্রাস, অভিবাসন সংখ্যা কমানো এবং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা বা এনএইচএস-এ চিকিৎসার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতির জন্য তিনি সময় চেয়েছেন।



