বিজয়ের শপথে বন্দে মাতরমের ছয় স্তবক, রাহুল-বিজয় মঞ্চে
বিজয়ের শপথে বন্দে মাতরমের ছয় স্তবক, রাহুল-বিজয় মঞ্চে

ভারতের জাতীয় সংগীত ও জাতীয় স্তোত্র নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা যখন রাজনৈতিক বিতর্কের তুঙ্গে, তখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গেলো এক ভিন্ন চিত্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত নির্দেশিকা মেনে বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’র আগে পুরো ছয় স্তবকের ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হয়। এ সময় মঞ্চে বিজয়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

পশ্চিমবঙ্গের শপথে ভিন্নতা

শনিবার কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে এই গানটি গাওয়া হয়নি। অথচ সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় নির্দেশিকার বিতর্ক

গত ২৮ জানুয়ারি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নির্দেশিকায় জানায়, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে ১৯৫০ সালে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত প্রথম দুই স্তবকের পরিবর্তে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা মূল ‘বন্দে মাতরম’-এর ছয়টি স্তবকই গাইতে হবে। একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’র সমান মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি একে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতি অপমান হিসেবে অভিহিত করে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, জাতীয় সংগীতের পরে বন্দে মাতরম বাজানো উচিত নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কংগ্রেসও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জানায়, ১৯৩৭ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শেই সব ধর্মের মানুষের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গানটির সংক্ষিপ্ত সংস্করণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে কটাক্ষ করে বলেছিলেন, ‘এটা গভীর পরিহাসের বিষয় যে, যারা আজ জাতীয়তাবাদের রক্ষক দাবি করছে, তারা আগে কখনও বন্দে মাতরম গায়নি।’ বিপরীতে বিজেপি অভিযোগ তোলে, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস সাম্প্রদায়িক এজেন্ডাকে তুষ্ট করতেই গানটি ছোট করেছিল।

বিজয়ের অনুষ্ঠানে নির্দেশিকা পালন

কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা নিয়ে বিরোধী শিবিরে যখন ক্ষোভ, তখন বিজয় ও রাহুল গান্ধীর উপস্থিতিতে রবিবার সেই নিয়মই অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হলো। অনুষ্ঠানের শুরুতে পুরো বন্দে মাতরম গাওয়া হয়, এরপর গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। সব শেষে বাজানো হয় তামিলনাড়ুর রাজ্য সংগীত ‘তামিল থাই ভালথু’।