ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন সরকারের দীর্ঘদিনের নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন একদল ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য। গত ৪ মে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ৩০ জন আইনপ্রণেতা এই দাবি জানান। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের স্বচ্ছতা এখন সময়ের দাবি বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে ধোঁয়াশা
ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’-এর তথ্যমতে, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও দেশটি কখনোই তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। চিঠিতে আইনপ্রণেতারা স্পষ্ট জানতে চেয়েছেন ইসরায়েলের কাছে কতগুলো পারমাণবিক ওয়ারহেড ও লঞ্চার আছে। বিশেষ করে দেশটির দিমোনা শহরে নেগেভ পারমাণবিক গবেষণাকেন্দ্র নিয়ে তারা বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। এ ছাড়া ইসরায়েল বর্তমানে কী পরিমাণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশাসনকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
দ্বৈত নীতির অভিযোগ
ডেমোক্র্যাটরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কোনো এক পক্ষের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে সরকারি অস্পষ্টতা থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিস্তার রোধ নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৬৮ সালে সিআইএ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসনকে জানিয়েছিল যে ইসরায়েল পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। পরবর্তীতে রিচার্ড নিক্সন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মেয়ারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যার ফলে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্রের অস্তিত্ব স্বীকার না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি থেকে মুক্তি পায়।
বর্তমান পরিস্থিতি
নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভের অনুমান অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ৬টি সাবমেরিন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে দূরে রাখার মার্কিন প্রচেষ্টার বিপরীতে ইসরায়েলের বিষয়ে এই নীরবতা দ্বৈত নীতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।



