ঢাকায় শুরু দুই দিনের বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স
ঢাকায় শুরু দুই দিনের জার্নালিজম কনফারেন্স

ঢাকায় শুরু হয়েছে দুই দিনের ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’। দশ দেশের সাংবাদিকতা বিশেষজ্ঞ ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৯টায় রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এই আয়োজন শুরু হয়। এতে গবেষক, শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন।

এমআরডিআইয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন

উন্নয়ন সংস্থা মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) তাদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান মুকুর বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে এই কনফারেন্স করতে চেয়েছি। আমরা একা থাকতে চাইনি, বরং সবাইকে অংশীজন করতে চেয়েছি। এজন্যই এর নাম ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স’।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সম্ভাবনা

দেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৬০ জনকে ফেলোশিপ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর আমরা ১৮৮টি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আইডিয়া পেয়েছি। এটি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মধ্যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার মন-মানসিকতা ও সাহস রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো, এত বড় সংখ্যা সত্ত্বেও কেন আমরা পত্রিকা বা টেলিভিশনে এত বিপুল সংখ্যক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখতে পাই না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা

পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের দুটি শীর্ষ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং তৎকালীন সরকার নীরব ভূমিকা পালন করে যে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে, তা উদ্বেগজনক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে ঢাকায় সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, সুইডেনে গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। এটি প্রমাণ করে যে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন কী অর্জন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, যখন সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করে এবং সমাজ স্বচ্ছতাকে মূল্য দেয়, তখন নাগরিকরা তাদের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্বাসযোগ্য মনে করে এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ বাড়ে।

গণমাধ্যম সংস্কারের সুযোগ

সম্মেলনে বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ বলেন, গত দুই বছরে গণমাধ্যম নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন, এমআরডিআইয়ের প্রতিবেদন এবং জাতিসংঘ ও ইউনেস্কোর প্রতিবেদন এসেছে। এখন প্রচুর তথ্য ও আলোচনার পর সুযোগ এসেছে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আলোচনার জন্য উন্মুক্ত, যা পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ

সম্মেলনে অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার টরন্টো স্টারের সাবেক সম্পাদক মাইকেল কুক, অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলিয়ান শের, পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকার সম্পাদক জাফর আব্বাস, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আইন বিশেষজ্ঞ জোয়ান বারাতা, আনন্দবাজার পত্রিকার সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-এডিটর স্বাতী ব্যানার্জী, ইউএনডিপি বাংলাদেশের ইলেক্টোরাল সাপোর্ট-ব্যালটের প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা আন্দ্রেস দেল কাস্তিয়ো সানচেজ, গ্লোবাল ফোরাম ফর মিডিয়া ডেভেলপমেন্টের (জিএফএমডি) ডেপুটি চেয়ার লক্ষ্মণ দত্ত পান্ত। এছাড়া গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের (জিআইজেএন) নির্বাহী পরিচালক এমিলিয়া দিয়াজ-স্ট্রাক ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সম্মেলনের সেশন ও আলোচ্য বিষয়

দুই দিনের এই সম্মেলনে মোট ১২টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে প্ল্যানারি সেশন, থিমেটিক সেশন, মাস্টারক্লাস ও প্যারালাল ট্র্যাক। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, সংবাদমাধ্যমের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল নিউজরুম রূপান্তর, লিঙ্গ সমতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার মতো বিষয়।