পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার আবহে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী চন্দ্রনাথ রাথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার উত্তরের একটি সরু গলিতে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার রাজ্যে বিজেপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই হত্যাকাণ্ড শহর ও শহরতলিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ ও ঘটনাস্থল
ঘটনাস্থলের পাশেই বাস করেন চম্পা চক্রবর্তী। তিনি জানান, বুধবার রাতে বাজি ফাটার মতো বিকট শব্দ শুনতে পান। বাইরে বেরোতেই দেখেন রক্তাক্ত পরিস্থিতি। বাড়ির কয়েক মিটারের মধ্যেই চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করে দুই আততায়ী। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়, যে গাড়িতে তিনি ছিলেন তার জানালার ভাঙা কাচ মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
সহিংসতার পরিসংখ্যান
রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ও মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার শুভেন্দু অধিকারীর সহযোগীকে হত্যার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ২০০টি এফআইআর দায়ের করেছে এবং ৪৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১১০০ জনকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ভীত সাধারণ মানুষ
সহিংসতার প্রভাব পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর। চম্পা চক্রবর্তী বলেন, আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সাথে এই রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও দলই আমাদের জন্য কিছু করে না। মাংসের দোকানের কর্মী অরিজিৎ দাস জানান, পুলিশি ব্যারিকেডের কারণে কাজে যেতে না পারলে তার দিনের ৫০০ টাকা আয় হতো না। তার মতে, এসব সহিংসতায় কেবল গরিবরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তপসিয়া ও নিউ মার্কেটে উত্তেজনা
শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুসলিম প্রধান এলাকা তপসিয়াতেও আতঙ্ক দেখা দেয়। মঙ্গলবার রাতে সেখানে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা তৃণমূলের অফিস ভাঙচুর করার চেষ্টা করলে বাসিন্দারা তাদের বাধা দেয়। কসবা বিধানসভার বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
অন্যদিকে নিউ মার্কেট এলাকার থমথমে পরিস্থিতি নিয়ে দোকানি মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, আগে নির্বাচনের পর দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতো, কিন্তু এবার তিনদিন পরেও সব জনশূন্য। এই এলাকার একটি তৃণমূল অফিস বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
জনরোষ
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় রিকশা ও বাসে বিজেপির পতাকা দেখা যাচ্ছে। এক ই-রিকশা চালকের দাবি, পরিবর্তনের আশায় মানুষ ভোট দিলেও সহিংসতা ও পেশিশক্তির প্রদর্শনী আগের মতোই রয়ে গেছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে কেবল দল বদলেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ওপর জোর-জুলুম ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি একই রয়ে গেছে।



