পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রাভি বৃহস্পতিবার বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভাও স্বাভাবিকভাবেই বিলুপ্ত হয়েছে। আইনত তিনি এখন ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রী’। কিন্তু তার এক্স ও ফেসবুক হ্যান্ডেলে এখনো লেখা আছে, ‘পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী’।
নির্বাচনে পরাজয় ও পদত্যাগে অনীহা
৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিজেপি বিশাল জয় পেয়েছে। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান হয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের চেয়ারপার্সন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হেরেছেন। ৫ মে এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন না। তার মতে, নির্বাচনের ফলাফল জনমতের সঠিক প্রতিফলন নয়।
২০১১ সালের স্মৃতি
এই ঘটনা অনেককে ২০১১ সালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। সেবার বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের পতন হয়েছিল। রাত একটার দিকেই ফলাফলের ধারা স্পষ্ট হয়ে গেলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালকে পদত্যাগপত্র দেন। রাজভবনে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেছিলেন বুদ্ধদেব। কিন্তু পদত্যাগপত্র দেওয়ার পরে তিনি আর সেই গাড়িতে চড়েননি। সিপিআইএম-এর নিজস্ব গাড়িতে চলে গিয়েছিলেন। যাওয়ার আগে নিরাপত্তারক্ষীদের ধন্যবাদ জানান এবং তাদের আর দায়িত্ব না রাখার অনুরোধ করেন।
বিজেপি নেতার তুলনা
বিজেপির নেতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বুদ্ধদেবের সেই আচরণের প্রশংসা করে মমতার সঙ্গে তুলনা টেনেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কোনো তুলনাই হয় না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও আমি স্বীকার করতে দ্বিধা করি না যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ছিলেন অসাধারণ সৎ ও চরিত্রবান মানুষ। ক্ষমতার লোভ তার ছিল না, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি তা প্রমাণ করে গেছেন।’



