তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর সরকার গঠন নিয়ে চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। অভিনেতা বিজয় নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি এম কে স্ট্যালিনের ডিএমকে এবং ই পালানিস্বামীর এআইএডিএমকে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করে, তবে টিভিকে-র নির্বাচিত ১০৭ জন বিধায়কের সবাই একযোগে পদত্যাগ করবেন।
গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সমীকরণ
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। বিজয়ের দলের সন্দেহ, জনগণের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে দুই প্রধান দ্রাবিড় দল পর্দার আড়ালে সমঝোতা করে ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচনে ১০৭টি আসন পেয়ে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও রাজ্যপাল আর ভি আরলেকর বিজয়কে সরকার গঠনের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
রাজ্যপালের অবস্থান ও বিতর্ক
রাজ্যপালের মতে, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৪ জন বিধায়কের সমর্থন বিজয়ের কাছে নেই। যদিও বিজয় দাবি করেছেন যে একক বৃহত্তম দল হিসেবে সংবিধান অনুযায়ী প্রথমে তাকেই আমন্ত্রণ জানানো উচিত এবং বিধানসভার ফ্লোর টেস্টে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। রাজভবন থেকে জানানো হয়েছে যে বিজয়কে অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সমর্থন সংগ্রহ ও জোটের গুঞ্জন
বর্তমানে টিভিকে-র হাতে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। অন্যদিকে, ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র মধ্যে একটি নজিরবিহীন সমঝোতার গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদয়নিধি স্ট্যালিনের অনুসারী ডিএমকে-র তরুণ নেতাদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে যে বিজয় ক্ষমতায় এলে তিনি কিংবদন্তি এমজিআর-এর মতো অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবেন, যা ডিএমকে-কে দীর্ঘকাল ক্ষমতার বাইরে ঠেলে দিতে পারে।
ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোটের সম্ভাবনা
এই ভয় থেকে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে একে অপরকে সমর্থনের মাধ্যমে বিজয়কে ক্ষমতার বাইরে রাখার পরিকল্পনা করছে বলে সূত্রের খবর। তবে ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিন এবং প্রবীণ নেতারা কয়েক দশকের শত্রুতা ভুলে এই জোটের ফলে জনগণের প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে শঙ্কিত। রাজ্যপালের এই অবস্থানের বিরুদ্ধে টিভিকে-র পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিআই এবং ভিসিকে-র মতো দলগুলোও সরব হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া
তারা বলছে যে একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের সুযোগ না দেওয়া জনগণের রায়ের অপমান এবং সুপ্রিম কোর্টের এসআর বোম্মাই মামলার রায়ের পরিপন্থী। অভিনেতা কমল হাসানও বিজয়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এনডিটিভিকে সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যপাল যদি বিজয়কে সরকার গঠনের সুযোগ না দেন এবং বিরোধী দলগুলো নীতিহীন জোট গড়ে তবে তারা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি গণপদত্যাগের মাধ্যমে রাজ্যে একটি রাজনৈতিক সংকট তৈরির পরিকল্পনা করছে।
আগামী দিনের সম্ভাবনা
বর্তমানে ১০ মে পর্যন্ত সব বিধায়ককে চেন্নাইয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে ডিএমকে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি।



