জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক কর্মকর্তা মাঞ্জিল হায়দার চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। এদিকে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিএম সাহাবুদ্দিন আজমের জামিন আবেদন নাকচ করা হয়েছে।
আদালতের আদেশ
বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার ও পূর্ববর্তী রিমান্ড
গত ৯ এপ্রিল মহাখালীর ডিওএইচএস এলাকা থেকে মাঞ্জিল হায়দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহতের ঘটনায় নিউমার্কেট থানার মামলায় তাকে তিন দফায় ১২ দিনের রিমান্ড নেওয়া হয়। ২২ এপ্রিল রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে পাঁচ দিন, ২৬ এপ্রিল চার দিন এবং ৩০ এপ্রিল তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত। ৩ মে রুবেল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
আরও রিমান্ডের আবেদন
রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে আরও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. আমজাদ হোসেন তালুকদার। আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানি নিয়ে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
সাহাবুদ্দিন আজমের জামিন নামঞ্জুর
সাহাবুদ্দিন আজমের পক্ষে তার আইনজীবী মেহেদী ইসলাম জামিন চেয়ে শুনানি করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ
মামলার বিবরণ থেকে জুলাই আন্দোলনের শেষ দিন অর্থাৎ ৫ অগাস্ট রুবেলসহ কয়েকশ ছাত্র-জনতা সকাল ১১টার দিকে আদাবরের রিংরোড এলাকায় প্রতিবাদী মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতীলীগ, কৃষকলীগ, মৎসজীবী লীগের নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে রুবেল গুলিবিদ্ধ হয়। নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২২ গত বছরে অগাস্ট আদাবর থানায় মামলাটি করেন রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম।
সাহাবুদ্দিন আজমের অন্যান্য মামলা
সেনাবাহিনীর ওপর হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গত বছরের ১২ জুন চিকিৎসা ভিসায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে সাহাবুদ্দিন আজমকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন রাতেই বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার আদাবরে পোশাক শ্রমিক রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ১৯ জুন তাকে যাত্রাবাড়ীতে মাইনুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক হত্যা মামলায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়।



