দিলীপ ঘোষের জয়, মমতার বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য
দিলীপ ঘোষের জয়, মমতার বিরুদ্ধে কড়া মন্তব্য

পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুর সদর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদীপ সরকারকে ৩০ হাজার ৫০৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। এক সময় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি ছিলেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়েও রয়েছে তার নাম। জয়ের পর নিজ নির্বাচনি এলাকায় বুলডোজারের ওপর দলীয় পতাকা উড়িয়ে বিজয় উদযাপন করেছেন এই বিজেপি নেতা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মমতা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম সরকার গঠন যখন সময়ের ব্যাপার, তখন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজ্যের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। রাজ্যের আর্থিক সংকট ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, নরেন্দ্র মোদি থাকলে সবকিছুই সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনা ও মানুষের ক্ষমতা আছে, শুধু প্রয়োজন ভালো প্রশাসন। কর্মসংস্থানের অভাবে ৫০ লাখের বেশি যুবক রাজ্য ছেড়েছেন। আমরা তাদের ঘরে ফেরার সুযোগ করে দেব।

তৃণমূল আমলের সমালোচনা

তৃণমূল আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাজ্যে কোনও প্রশাসন ছিল না, আইন-শৃঙ্খলা ও শিল্প বলতে কিছু ছিল না। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। পাহাড় থেকে সমুদ্র সব থাকা সত্ত্বেও অভাব ছিল সুশাসনের।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভোট পরবর্তী সহিংসতার প্রসঙ্গ

ভোট পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ২০২১ সালে নির্বাচনের পর কতজন বিজেপি কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, তা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। বিজেপি সহিংসতায় বিশ্বাস করে না। গতবার আমাদের অনেক কার্যালয় দখল করে রং বদলে দেওয়া হয়েছিল। এখন মানুষ জানে কোনগুলো বিজেপির অফিস, তাই সেখানে দলীয় পতাকা লাগানো হচ্ছে। ডায়মন্ড হারবারে আমাদের ১২টি অফিস জেসিবি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মমতার পদত্যাগ প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে দিলীপ ঘোষের কড়া মন্তব্য, জনগণ তাকে ১৫ বছর সময় দিয়েছিলেন। তিনি তিনবার সুযোগ পেয়েছিলেন কিন্তু মানুষের জন্য কিছুই করেননি। কেবল দুর্নীতি আর কেন্দ্রের বিরুদ্ধে নালিশ করেছেন। মানুষ তাকে বড় শাস্তি দিয়েছে, অথচ তিনি এখনও অভিযোগ করে যাচ্ছেন।

মমতার পরাজয় প্রসঙ্গে

২০২১ সালে নন্দীগ্রাম এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে মমতার হার নিয়ে তিনি বলেন, মানুষ এখন বলছে ঘরে থাকুন, বিশ্রাম নিন আর পূজা-অর্চনা করুন। কিন্তু মানুষের অভ্যাস সহজে যায় না। জনগণ উন্নয়ন চায় বলেই বিজেপিকে বেছে নিয়েছে।

বিজয় উদযাপনে বুলডোজার ব্যবহার

বিজয় উদযাপনে বুলডোজার বা জেসিবি ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি আর অনুপ্রবেশকারীদের হঠাতে জেসিবি প্রয়োজন। দল আমাকে ভোট লড়তে বলেছিল, লড়েছি ও জিতেছি। সামনে দল যা দায়িত্ব দেবে, তা-ই করব।

মোদির নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিতেই আমরা চলব। তবে এবার নতুন একটি বিষয় যোগ হবে, তা হলো ‘সবকা হিসাব’। আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।