মমতার পতন: ভারতের নারী নেত্রীদের ত্রয়ীর ছন্দপতন ও ভবিষ্যৎ
মমতার পতন: ভারতের নারী নেত্রীদের ত্রয়ীর ছন্দপতন

ভারতের রাজনীতিতে এক সময় যে তিন নারী নেত্রীর নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হতো—জে জয়ললিতা, কুমারী মায়াবতী এবং মমতা ব্যানার্জী—তাদের মধ্যে মমতা ব্যানার্জীর পতন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি এবং নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ত্রয়ীর উত্থান ও পতন

ভারতীয় রাজনীতিতে নারী নেত্রীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ইন্দিরা গান্ধী থেকে সুচেতা কৃপালনী—সবাই প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু জয়ললিতা, মায়াবতী ও মমতা ব্যানার্জী আঞ্চলিক রাজনীতিতে ব্যক্তিনির্ভর শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন। জয়ললিতা, যিনি 'আম্মা' নামে পরিচিত, চারবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ২০১৬ সালে মারা যান। মায়াবতী, 'বেহেনজি' নামে খ্যাত, চারবার উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হন, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর দল বহুজন সমাজ পার্টির প্রভাব কমেছে। মমতা ব্যানার্জী, 'দিদি' নামে পরিচিত, ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হন।

মমতার পরাজয়ের কারণ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পায়, তৃণমূল পায় ৮০টি। বিশেষ করে ভবানীপুরে নিজ কেন্দ্রে পরাজয় মমতার জন্য বড় ধাক্কা। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা ও পৌরসভায় দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি, নারী নির্যাতনের ঘটনা এবং তোষণের রাজনীতি এই পরাজয়ের কারণ। ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির ড. উমেশ কুমার বলেন, 'গভীর সরকার-বিরোধী মনোভাব, দুর্নীতির অভিযোগ এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো বিষয় নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যৎ কী?

মমতা ব্যানার্জী ফল মানতে নারাজ। তিনি বলেছেন, 'আমি হারিনি, মরালি আমরা জিতেছি। ইস্তফা দেব না।' কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধ্যাপক মইদুল ইসলাম বলেন, 'জয়ললিতার মৃত্যু ও মায়াবতীর পুনরুত্থান না হলেও মমতা বারবার লড়াই করে ফিরে এসেছেন। তাঁর কাছে এখন অবকাশ আছে, তিনি সাংগঠনিক ভিত পোক্ত করতে পারেন।' দিল্লির পলিটিক্যাল ইকোনমিস্ট ড. রোহিত জ্যোতিষ মনে করেন, 'মমতার পতন ব্যক্তিগত নয়, বরং কেন্দ্রীভূত আঞ্চলিক নেতৃত্ব এখন বেশি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের মুখোমুখি।'

মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, 'উই উইল ফাইট ইট আউট।' তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাঁর লড়াকু মনোভাব এবং তৃণমূল স্তরের সংযোগ তাকে পুনরুত্থানের সুযোগ দিতে পারে।