বগুড়ায় জেলা প্রশাসকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা
বগুড়ায় জেলা প্রশাসকসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা

বগুড়ায় আদালত অবমাননার অভিযোগে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার-ভূমির (এসিল্যান্ড) বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া তিন কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছেন যুগ্ম জেলা জজ আদালত-২-এর বিচারক শামিমা খাতুন। মঙ্গলবার বগুড়া জজ কোর্টের আইনজীবী এমএ সোবহান এ তথ্য দিয়েছেন।

মামলার পটভূমি

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কোষাশ মৌজার ৫.৯৯ একর ‘বিষলাল’ পুকুর সংস্কার ও পুকুরপাড়ে সাইনবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মনছের আলী সরদারসহ ১০ জন যৌথ মামলা করেন। এতে বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে, পুকুর সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালত অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরও বিবাদীরা বেআইনিভাবে পুকুরপাড়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন।

শোকজ নোটিশ

সোমবার বাদীপক্ষের আবেদন আমলে নিয়ে আদালত প্রশাসনের উল্লিখিত তিন কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ দেন। সেরেস্তাদার স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ মে সকাল ৯টায় আদালতে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের জবাব দিতে হবে। তা না হলে একতরফাভাবে শুনানি ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুকুরের বিবরণ

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের কোষাশ মৌজার জেএল-৮১, সিএস খতিয়ান-৭০, এমআরআর-১৩০ এবং আরএস খতিয়ানের ৪৫৫/৯৭০ দাগভুক্ত ৫.৯৯ একর ‘বিষলাল’ পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে বাদীপক্ষ ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে তাদের বসতবাড়ি রয়েছে এবং পুকুরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাদীপক্ষ

বাদীপক্ষ হলেন– মনছের আলী সরদার, মোবারক হোসেন, মোসলেম উদ্দিন, মমতাজ বেগম, মোমেনা খাতুন, মাবিয়া খাতুন, ছলিম উদ্দিন, আব্দুল আজিজ, মো. বায়েজিদ ও মো. ওয়াজেদ। সম্পত্তিটি ভুলক্রমে ১/১ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলা প্রশাসকসহ সাত জনকে বিবাদী করে ২০২০ সালে মামলা (নং-৯৫/২০২০) করা হয়। পরে বগুড়ার যুগ্ম জেলা জজ-২ আদালত ২০২১ সালের ৯ মে ওই মামলায় অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ২৭ এপ্রিল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুকুরটিকে সরকারি সম্পত্তি দাবি ও সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ এপ্রিল পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা করে বাদীপক্ষ।

প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রোহান সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোষাশ মৌজার বিষলাল পুকুরে সরকার পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত অবমাননার বিষয়টি জেনেছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’