ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। আগামী ১৭ মে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।
আদালতে নতুন তারিখ ধার্য
মঙ্গলবার (৫ মে) মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিলো। তবে, এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে এই তারিখ ধার্য করেন। এ নিয়ে মামলাটিতে অধিকতর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৩ বারের মত সময় পেলেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
প্রসিকিউশনের তথ্য
প্রসিকিউশন বিভাগের পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. মামুন হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডি আরও সময় চেয়েছে, যা আদালত মঞ্জুর করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান বিন হাদি মারা যান।
মামলা দায়ের ও তদন্ত
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলাতে রূপান্তরিত হয়। ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলা তদন্ত করে ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মামলার বাদী এ অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
অভিযোগের বিবরণ
মামলার অভিযোগে বলা হয়, শরীফ ওসমান হাদি অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে তার মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হন। পরবর্তীতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর মারা যান।



