ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ২০-২৫ বাড়ি ভাঙচুর
ফরিদপুরের সালথায় আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ, ২০-২৫ বাড়ি ভাঙচুর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলার মিরের গট্টি গ্রামে হামলা চালিয়ে ২০-২৫টি বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

বিরোধের সূত্রপাত

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গট্টি ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আড়য়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য নুরু মাতুব্বরের সঙ্গে বালিয়া গট্টি গ্রামের জাহিদ মাতুব্বরের বিরোধ চলে আসছে। এলাকায় তাঁরা গ্রাম্য মোড়ল হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি বাজার, আড়য়াকান্দী ও মিরের গট্টি এলাকায় একের পর এক এই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে।

স্থানীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ

সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, একসময় নুরু ও জাহিদ দুজনই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নুরু সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। জাহিদের কোনো পদ না থাকলেও তিনি গট্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমীর মাতুব্বরের ভাতিজা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুজনই বিএনপিতে যোগ দিয়ে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। দুই পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০ বার সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন পঙ্গু হয়ে গেছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে দুই শতাধিক বসতবাড়ি। এমনকি কয়েকটি বাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাম্প্রতিক ঘটনা

এলাকাবাসী জানান, পূর্ববিরোধের জেরে গতকাল দুপুরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক আনোয়ার শেখকে (৩০) পিটিয়ে আহত করেন জাহিদের সমর্থকেরা। খবর পেয়ে ঘটনার কিছু সময় পর জাহিদের সমর্থক রেজাউলকে মারধর করেন নুরু মাতুব্বরের সমর্থকেরা। এর পর থেকে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আজ সকালে ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে মিরের গট্টি এলাকায় নুরু মাতুব্বরের ছেলে রাজিব মাতুব্বরকে (৩২) কুপিয়ে আহত করেন জাহিদের সমর্থকেরা। পরে নুরু মাতুব্বরের সমর্থকেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে মিরের গট্টি ও নয়াকান্দি গ্রামে জাহিদের সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ২০–২৫টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও দুটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য

নুরু মাতুব্বর বলেন, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাহিদ ও আজাদ মাতুব্বরের সমর্থকেরা আমাদের ১০-১২ জনকে পিটিকে ও কুপিয়ে পঙ্গু করে ফেলেছে। থানায় অভিযোগ দিলে অভিযোগ নেয় না। পুলিশ তাদের পক্ষে কাজ করে। পুলিশ শক্ত ভূমিকা নিলে এমন পরিস্থিতি ঘটত না। আজও আমার ছেলেসহ কয়েকজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে।’

জাহিদ মাতুব্বর বলেন, ‘আমার কোনো সমর্থক নেই। আমি এখন নিজেও অসুস্থ। তারপরও আমি আজ থেকে কোনো রাজনীতি, মাতবরি, কোনো ঝুটঝামেলার মধ্যে নেই। সবকিছু ছেড়ে আমি আমার পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’

পুলিশের অবস্থান

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান বলেন, দুই মাতুব্বরের মধ্যে এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে একের পর এক হামলা-মামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরপেক্ষভাবে কঠোর ভূমিকা পালন করছে। এখানে কোনো পক্ষ নেওয়া হচ্ছে না। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সঠিক নয়।