বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সোমবার বলেছেন, ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ন্যায্য তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ।
মরদেহ গ্রহণের পর প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে এক আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখছি যাতে হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত হয়। সরকার সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
অপর ভুক্তভোগীর মরদেহ আনার প্রচেষ্টা
শামা ওবায়েদ আরও জানান, অপর ভুক্তভোগী নাহিদা সুলতানা ব্রিস্টির মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা চলছে। লিমনের মরদেহ সোমবার সকাল ৮টা ৪৭ মিনিটে ঢাকা পৌঁছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা
লিমন ও ব্রিস্টি উভয়ই সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন এক বন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাদের নিখোঁজের খবর জানান।
প্রসিকিউটরদের মতে, লিমনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তাকে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। ২৪ এপ্রিল হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই দিন পর কাছের একটি জলাশয় থেকে ব্রিস্টির মরদেহ উদ্ধার হয়।
আসামি গ্রেপ্তার ও জামিন
ঘটনার কয়েক দিন পর পুলিশ সন্দেহভাজন হিশাম সালেহ আবুঘারবিহকে তার বাবার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। আদালত তাকে জামিন না দিয়ে জেলহাজতে রাখার এবং ভুক্তভোগীদের পরিবার ও সাক্ষীদের সাথে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দিয়েছে।
লিমনের জানাজা
লিমনের জানাজা ৩০ এপ্রিল টাম্পার ইসলামিক সোসাইটি অব টাম্পা বে এরিয়ার মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহপাঠী, আত্মীয়স্বজন, মিয়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কর্মকর্তা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।
ব্রিস্টির মরদেহ repatriation
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিস্টির পরিবার তার মরদেহ দেশে আনার জন্য সম্মতি দিয়েছে। পিনেলাস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কাছে একই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া গৃহে মরদেহ হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিয়ামি কনস্যুলেট জেনারেল তার মরদেহ দ্রুত দেশে আনতে সমন্বয় করছে।



