বার নির্বাচনে অনিয়ম: প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি ইউরোপীয় আইনজীবী সংগঠনের
বার নির্বাচনে অনিয়ম: প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি ইউরোপীয় আইনজীবী সংগঠনের

বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা আইনজীবী সমিতি ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে অনিয়ম, প্রার্থিতা বাতিল, ভয়ভীতি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে উদ্বেগ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী আইনজীবী সংগঠন কাউন্সিল অব বারস অ্যান্ড ল’ সোসাইটিজ অব ইউরোপ (সিসিবিই)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ব্রাসেলস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটির সভাপতি রোমান জাভরশেক এসব বিষয় উল্লেখ করেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, সিসিবিই ইউরোপের ৪৬টি দেশের বার কাউন্সিল ও আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের আওতায় ১০ লাখের বেশি আইনজীবী রয়েছেন। সংগঠনটি বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ঝুঁকিতে থাকা আইনজীবীদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করে।

চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষেত্রে প্রার্থীরা শারীরিক হয়রানিরও শিকার হয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এতে আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি ঘটনায় প্রার্থীদের ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে কিছু প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়া হয়েছে বা নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সিসিবিই তাদের চিঠিতে জাতিসংঘের আইনজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কিত মৌলিক নীতিমালার ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর নীতির কথা উল্লেখ করে বলেছে, এসব নীতিতে আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে। একইসঙ্গে ইউরোপ কাউন্সিলের নবগৃহীত ‘কনভেনশন অন দ্য প্রোটেকশন অব দ্য প্রফেশন অব লইয়ার’-এ বাংলাদেশের দ্রুত স্বাক্ষর ও অনুসমর্থনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিঠিতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও বৈষম্যহীনভাবে আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়ম, বাধা, ভয়ভীতি, হয়রানি ও সহিংসতার অভিযোগ দ্রুত তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে।

চিঠির শেষাংশে বলা হয়েছে, আইনজীবীরা যেন প্রতিশোধ, ভয়ভীতি, বাধা বা হয়রানির আশঙ্কা ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত জরুরি।