বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স সঁ ফ্রঁতিয়ের (আরএসএফ), যা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স নামে পরিচিত। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতা ক্রমেই অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স ২০২৬
প্রতি বছর আরএসএফ ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ প্রকাশ করে, যেখানে ১৮০টি দেশের সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মাত্রা তুলনা করা হয়। পাঁচ স্তরের সূচকে দেশগুলোকে ‘খুবই খারাপ’ থেকে ‘ভালো’ পর্যন্ত শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। ২০০২ সালে সূচক প্রকাশ শুরুর পর এই প্রথম বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশ ‘কঠিন’ বা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ শ্রেণিতে পড়েছে। আরএসএফ বলছে, এটি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ওপর বাড়তে থাকা দমন-পীড়নের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
শীর্ষ ও নিচের দেশ
সূচকে মাত্র সাতটি দেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই নর্ডিক অঞ্চলভুক্ত। নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া শীর্ষ তিনে রয়েছে। ফ্রান্স ২৫তম স্থানে ‘সন্তোষজনক’ স্কোর পেয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ৬৪তম স্থানে ‘সমস্যাজনক’ অবস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দেশটি এ র্যাংকিংয়ে সাত ধাপ পিছিয়েছে। আরএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণকে নীতিতে পরিণত করেছিল। এতে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের প্রতিবাদ কভার করার সময় সালভাদোরীয় সাংবাদিক মারিও গুয়েভারার আটক ও পরে বহিষ্কারের ঘটনা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম স্থগিত করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি
লাতিন আমেরিকায় আর্জেন্টিনা ও এল সালভাদরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে বলে জানায় আরএসএফ। পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যকে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে রাশিয়া ও ইরান তালিকার নিচের দিকে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কমার অন্যতম কারণ যুদ্ধ এবং তথ্যপ্রাপ্তিতে বিধিনিষেধ আরোপ। গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর হামলার উদাহরণ হিসেবে ইসরাইলের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ২২০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিকদের অপরাধীকরণ
আরএসএফ জানায়, বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি দেশে বিভিন্নভাবে সাংবাদিকদের অপরাধী করা হচ্ছে। ভারত (১৫৭), মিসর (১৬৯), জর্জিয়া (১৩৫), তুরস্ক (১৬৩) ও হংকংকে (১৪০) এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে বলেন, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করার ঘটনা এখন আরও জটিল ও প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। তিনি কর্তৃত্ববাদী শাসন, দুর্বল রাজনৈতিক কাঠামো, অর্থনৈতিক স্বার্থগোষ্ঠী এবং নিয়ন্ত্রণহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।



