যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোরতা আরও বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এখন থেকে মার্কিন ভিসার জন্য আবেদনকারীদের নিশ্চিত করতে হবে যে, তারা নিজ দেশে কোনও ধরনের রাজনৈতিক, জাতিগত বা ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয় পাচ্ছেন না। মূলত সম্ভাব্য রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের দেশে প্রবেশ ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
নতুন নিয়মের রূপরেখা
চলতি সপ্তাহে বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনসুলেটে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তায় (ক্যাবল) এই নতুন নিয়মের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ইতোমধ্যে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কঠোর করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী পরীক্ষা করার জন্য অভিবাসন সংক্রান্ত সব আবেদনপত্রের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে প্রশাসন।
অ-অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
এই নতুন নিয়মটি মূলত অ-অভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী কর্মীরা রয়েছেন। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল।
কূটনৈতিক বার্তায় যা বলা হয়েছে
সিএনএন-এর পর্যালোচিত সেই কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, ‘ভিসা আবেদনকারীরা যেন ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও ভুল তথ্য দিয়ে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে না পারেন, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের তা নিশ্চিত করতে হবে। যারা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের দাবি করার উদ্দেশ্যে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের ঠেকাতে হবে।’
কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, তারা আবেদনকারীকে দুটি প্রশ্ন করবেন, প্রথমটি হলো, ‘আপনি কি আপনার নিজ দেশে কোনও ক্ষতি বা দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন?’ এবং দ্বিতীয়টি ‘আপনি কি আপনার দেশে ফিরে গেলে কোনও ক্ষতি বা দুর্ব্যবহারের আশঙ্কা করছেন?’ নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে আবেদনকারীকে মৌখিকভাবে উভয় প্রশ্নের উত্তরই ‘না’ দিতে হবে।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ‘কনস্যুলার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর। মার্কিন আইন অনুযায়ী প্রতিটি আবেদনকারী যোগ্য কি না, তা নির্ধারণ করতে মন্ত্রণালয় সব ধরনের সরঞ্জাম ও সম্পদ ব্যবহার করছে।’
রাজনৈতিক আশ্রয় আইন
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সশরীরে দেশটিতে উপস্থিত থাকতে হয় এবং প্রমাণ করতে হয় যে তিনি নিজ দেশে রাজনৈতিক, জাতিগত বা ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার।
বিশেষজ্ঞের মতামত
অভিবাসন নীতি বিশেষজ্ঞ ক্যামিল ম্যাকলার বলেন, এই নতুন নির্দেশনা মানুষকে অত্যন্ত ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেবে। এটি তাদের এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে যা শেষ পর্যন্ত তাদের এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করবে। তিনি আরও বলেন, এর ফলে মানুষ অনিরাপদ ও বিপজ্জনক পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করবে। কারণ যাদের জীবন বাঁচাতে দেশ ছাড়া প্রয়োজন, তারা যেকোনও উপায় বেছে নেবে।



