মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও কমেছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার সব বন্দীর সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির এক সূত্র জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে সু চির বাকি সাজাও কমবে। তবে তার বর্তমান সাজা কত বছর তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পটভূমি
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং প্রথমে সামরিক প্রধান ছিলেন এবং সম্প্রতি একটি সীমিত নির্বাচনের পর তিনি বেসামরিক রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এই নির্বাচনকে গণতন্ত্র পর্যবেক্ষকরা সামরিক শাসনের পুনর্ব্র্যান্ডিং বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সাজা হ্রাসের ঘোষণা
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি সরকারি ছুটি উপলক্ষে সব বন্দীর বাকি সাজার এক-ষষ্ঠাংশ মওকুফ করা হবে। বিবৃতিতে কোনো বন্দীর নাম উল্লেখ না থাকলেও এনএলডি সূত্র জানিয়েছে, ৮০ বছর বয়সী সু চিও এই সুবিধা পাবেন। তবে মিয়ানমারের অস্বচ্ছ আদালত ব্যবস্থায় তার কত বছর সাজা ইতিমধ্যেই কাটা হয়েছে এবং কত বছর বাকি রয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
সু চির সাজা
সু চিকে দুর্নীতি থেকে শুরু করে কোভিড-১৯ বিধি লঙ্ঘনের মতো বিভিন্ন অভিযোগে বদ্ধ আদালতে বিচার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার ৩০ বছরের বেশি সাজা হয়। ২০২৩ সালে কিছু অপরাধের জন্য রাষ্ট্রপতি ক্ষমা ঘোষণা করলে তার সাজা ২৭ বছরে নামিয়ে আনা হয়।
সম্ভাব্য মুক্তি
গত মাসে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মিন অং হ্লাইং আরেকটি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন, যা সু চির সাজা আরও কমিয়ে দেয়। এছাড়া তিনি সু চির শীর্ষ সহযোগী উইন মিন্টকেও ক্ষমা করেন, যিনি তার প্রতীকী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই পদক্ষেপগুলি ইঙ্গিত দেয় যে সু চির কারাদণ্ড আরও শিথিল হতে পারে। তবে সু চি এখনও মিয়ানমারের ভেতরে ব্যাপক জনপ্রিয় থাকলেও তাকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং তার পরিবার তার ক্রমাবনতিশীল স্বাস্থ্যের কথা জানিয়েছে।



