শেখ হাসিনা-তাপসের অডিও কণ্ঠ মিলেছে, ফরেনসিক প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে
শেখ হাসিনা-তাপসের অডিও কণ্ঠ মিলেছে: ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের কথোপকথনের অডিওতে কণ্ঠস্বরের মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ। একইসঙ্গে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের কণ্ঠস্বরও শনাক্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জবানবন্দিতে তিনি এ তথ্য জানান।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যা মামলায় সাক্ষ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান তাইম হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ১০ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে সাক্ষীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তিনি সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবে কর্মরত।

ফরেনসিক বিশ্লেষণের ফলাফল

ট্রাইব্যুনালে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ বলেন, প্রসিকিউশন থেকে পাওয়া আলামত হিসেবে একাধিক কণ্ঠস্বরের যাচাই-বাছাই করা হয়। পরীক্ষাধীন অডিও ফাইলটি পরিচিত কণ্ঠের রেকর্ডের সঙ্গে ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে তুলনা করে উল্লেখযোগ্য মিল পাওয়া গেছে। এতে ক্লিপে থাকা কণ্ঠগুলো শেখ হাসিনা ও তাপসের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনা ও তাপসের মধ্যে কথোপকথন হয়। ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি নির্দেশ দিয়েছি, এখন সরাসরি নির্দেশ দিয়েছি। তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করবে। যেখানে তাদের পাবে, সেখানেই সরাসরি গুলি করবে।’ জবাবে তাপস বলেন, ‘জি, জি।’

হাবিবুর রহমানের কণ্ঠ শনাক্ত

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানের কণ্ঠস্বরও বিশ্লেষণ করেন একই বিশেষজ্ঞ। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, অডিও ক্লিপে থাকা কণ্ঠ হাবিবুর রহমানেরই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদনটি প্রমাণ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার আসামিরা

এ মামলায় ১১ আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী। পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, সহিদুল ইসলাম সরদার, মঈনুল করিমসহ অন্যরা।