বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক মঙ্গলবার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার, শিপিং রুট এবং মূল্য অস্থিরতার মাধ্যমে লন্ডন থেকে ঢাকা পর্যন্ত সব জায়গায় প্রভাব ফেলছে।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে
ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত 'ডিক্যাব টক'-এ তিনি বলেন, 'আজ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে।' পররাষ্ট্রনীতি অবশ্যই দেশের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বজায় রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাইকমিশনার বলেন, স্বাধীন নৌচলাচল, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে, এটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা। বাংলাদেশও জ্বালানি মূল্য, পরিবহন খরচ এবং সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার মাধ্যমে এই ধাক্কা সরাসরি অনুভব করেছে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক: আধুনিক ও কৌশলগত
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে 'আধুনিক ও কৌশলগত' হিসেবে বর্ণনা করে হাইকমিশনার বলেন, এই সম্পর্ক রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু নেতৃত্ব, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, অভিবাসন এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগকারী এবং একটি নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদার। ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ বর্তমানে ৯৯.৮% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংস্কার ও অবৈধ অর্থায়ন মোকাবিলা
হাইকমিশনার বলেন, ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করছে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শাসন জোরদার করতে এবং অবৈধ অর্থায়ন মোকাবিলায় সহায়তা করছে। ২০২৫ সালের জুন থেকে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি ব্যক্তিদের ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
জুন মাসে লন্ডনে একটি অবৈধ অর্থায়ন শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করবে যুক্তরাজ্য, যেখানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে তিনি জানান।



