যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরু সোমবার
রাজা তৃতীয় চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফর সোমবার

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস আগামী সোমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। এই সফরের পেছনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট কাজ করছে: ইরান যুদ্ধ নিয়ে লন্ডন-ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন এবং এপস্টিন কেলেঙ্কারির দীর্ঘ ছায়া। বাকিংহাম প্যালেস ও যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে সম্মান জানানোই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।

সফরের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব

যুক্তরাজ্য সরকার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে রাজা হিসেবে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন তৃতীয় চার্লস। চার দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে রানি ক্যামিলাও রাজার সঙ্গী হবেন। সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ লন্ডন-ওয়াশিংটনের মধ্যে বিরল এক দূরত্ব তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন, যার ফলে তাঁকে বারবার ট্রাম্পের আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। স্টারমার সরকারের অভিবাসন ও জ্বালানিনীতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত মার্চে স্টারমারকে খোঁচা দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'তিনি তো আর উইনস্টন চার্চিল নন।' ট্রাম্প আরও বলেছিলেন, দুই দেশের তথাকথিত 'বিশেষ সম্পর্ক' আগের মতো নেই। যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থা নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ট্রাম্প।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনমত ও বিশেষজ্ঞদের মতামত

চলতি এপ্রিল মাসের শুরুতে ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক রাজার এই সফর বাতিলের পক্ষে। তবে স্টারমার এই সফরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পার্লামেন্টে তিনি বলেছেন, 'রাজতন্ত্র যে বন্ধন গড়ে তোলে, তা দশকের পর দশক ধরে টিকে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে সেটাই কাজে আসে।' অন্যদিকে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বিবিসিকে বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক মেরামতে এই সফর 'অবশ্যই' সাহায্য করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজার কূটনৈতিক দক্ষতা

৭৭ বছর বয়সী রাজা চার্লস রাজকীয় কূটনীতিতে বেশ পটু। গত সেপ্টেম্বরে ট্রাম্পের লন্ডন সফরের সময় রাজার এই দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজতন্ত্রবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রেইগ প্রেসকট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির এই উপলক্ষ যুক্তরাজ্যের জন্য একটি সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে।

এপস্টিন কেলেঙ্কারি ও বিতর্ক

আসন্ন এই সফর ঘিরে আরও একটি বিতর্কিত বিষয় সামনে এসেছে। রাজার ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর, যিনি আগে প্রিন্স অ্যান্ড্রু নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের বন্ধুত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দুজনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করা হলে বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। গত অক্টোবরে চার্লস তাঁর বিতর্কিত ভাইয়ের সব রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেন। অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে এখনো পুলিশের তদন্ত চলছে, যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সফরসূচি ও নিরাপত্তা

রাজা চার্লসের যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রতিটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আগামী মঙ্গলবার ওভাল অফিসে ট্রাম্প ও চার্লসের বৈঠকে শুধু আলোকচিত্রীদের প্রবেশাধিকার থাকবে। রাজা যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত প্রশ্নের মুখে না পড়েন, সে জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। সফরসূচিতে ট্রাম্প-মেলানিয়া দম্পতির সঙ্গে রাজার চায়ের আড্ডাসহ একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভা আছে। আগামী বুধবার চার্লস ও ক্যামিলা নিউইয়র্কে যাবেন। সেখানে তাঁরা নাইন-ইলেভেন স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন। এরপর বৃহস্পতিবার তাঁরা বারমুডার উদ্দেশে রওনা হবেন।