ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান: জাতীয় স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, কূটনীতি কেবলমাত্র জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেই কেবল তেহরান এই কূটনৈতিক পথে অগ্রসর হবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও আলোচনার অনিশ্চয়তা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বাঘাই উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি ইরান। ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনার বিষয়ে যেকোনও সিদ্ধান্ত দেশটির জাতীয় স্বার্থের ওপরই সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করবে।
এদিকে, বার্তা সংস্থা ফার্স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসন ও ইরানের প্রতিক্রিয়া
বাঘাই আরও বলেন, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা ও সেগুলো জব্দ করার ঘটনা প্রমাণ করে না যে, একটি দেশ কূটনীতি নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পাল্টা জবাব হিসেবেই ইরান আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
ইরানের এই মুখপাত্র জানান, ইরান খুব নিবিড়ভাবে যুদ্ধের ময়দান ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এছাড়া ইরান তাদের বৈধ অধিকার রক্ষা, আগ্রাসনের জন্য আইনি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা চালিয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গ
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক বিভাগ (পেন্টাগন) মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের বাহিনী শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝামাঝি ভারত মহাসাগরে ইরানি অপরিশোধিত তেল পাচারের দায়ে অভিযুক্ত একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অবস্থান নিয়েছে। এর আগে গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ওমান উপসাগরে নৌ অবরোধ এড়িয়ে চলা একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ তুসকা জব্দ করেছে মার্কিন বাহিনী।
৪০ দিনের লড়াইয়ের পর ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। বর্তমানে চলমান দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার রাতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবেন। ইরানও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট: জাতীয় স্বার্থ রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং যেকোনও আলোচনা বা পদক্ষেপ এই নীতির অধীনেই পরিচালিত হবে।



