বিএনপি মহাসচিব ফখরুলের চীন সফর: 'ওয়ান চায়না পলিসি'তে বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত
ফখরুলের চীন সফর: 'ওয়ান চায়না পলিসি'তে বাংলাদেশের সমর্থন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্পন্ন করেছেন। এই সফরে তিনি চীনের 'ওয়ান চায়না পলিসি'র প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত বলে উল্লেখ করেছেন।

নৈশভোজে সম্পর্কের শক্তি তুলে ধরা

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে, চীনের ভাইস মিনিস্টার জিন ঝিনের আমন্ত্রণে বেইজিংয়ের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত নৈশভোজে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি সেখানে উপস্থিত বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সামনে বলেন, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে গড়ে ওঠা ভ্রাতৃপ্রতীম ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কালের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং এটি একটি শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত

ওয়ান চায়না পলিসিতে সমর্থন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন যে, চীনের 'ওয়ান চায়না পলিসি'র প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ ও দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই নীতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যত সম্পর্ক উন্নয়নে আশাবাদ

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, নতুন সরকারের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে এবং এই সম্পর্ক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সফরের পটভূমি ও প্রতিনিধি দল

উল্লেখ্য, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে ২০ এপ্রিল সকালে বেইজিং পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গত ১৬ এপ্রিল থেকে সফররত বিএনপির ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যুক্ত হন। এই প্রতিনিধি দলে আরও রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ।

এছাড়া, নৈশভোজে উপস্থিত ছিলেন আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নজমুল হক নান্নু, শামসুজ্জামান দুদু, এস এম আসাদুজ্জামান রিপন, বেবী নাজনীন, খাইরুল কবির খোকন, মো. হাবিব উন-নবী খান সোহেল, আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মো. কামরুজ্জামান, নিলুফার চৌধুরী মনি, সাইয়েদ আল নোমান, মো. মনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সানজিদা ইসলাম, কামাল আনোয়ার আহেম্মেদ, মো. ইউনুস আলী, মো. আমানুল্লাহ এবং মীর সোলায়মান।

আগামী বৈঠকের পরিকল্পনা

আগামী ২১ এপ্রিল বেলা ১১টায় আইডিসিপিসির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইজিংয়ের সঙ্গে আইডিসিপিসি ভবনে এবং একই দিন বিকালে গ্রেট হলে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যান জেংয়ের সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকগুলো দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সফর বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সহযোগিতামূলক উদ্যোগগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে।