পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের ডাকার সম্মেলনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সেনেগালের রাজধানী ডাকায় অনুষ্ঠিত আফ্রিকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক ফোরামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেলে বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অগ্রসর হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গঠন করা।
বাংলাদেশ-সেনেগাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক গুরুত্ব
সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ নিয়াংয়ের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আফ্রিকান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় সেনেগালকে আবারো আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশ-সেনেগাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল ও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এ প্রসঙ্গে, ১৯৮১ সালের মার্চে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেনেগাল সফরের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই ঐতিহাসিক সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছিল এবং বর্তমান সরকার সেই সম্পর্ককে আরও বিকশিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন অঙ্গীকার ও নারী ক্ষমতায়ন
প্রতিমন্ত্রী জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থনৈতিক, ডিজিটাল, মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তরুণদের ভূমিকার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি, জনগণ, বিশেষত নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’সহ নতুন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশে নারীশিক্ষা সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য ভূমিকার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং টেকসই শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান
প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাল অপতথ্য ও অনলাইন হয়রানির ঝুঁকি, বিশেষত নারীদের লক্ষ্য করে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব জোরদারে একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাব সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের, বিশেষ করে সেনেগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে। এছাড়া, তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেন এবং মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ব মানবতার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সহযোগিতা সম্প্রসারণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমে বাংলাদেশের অনন্য অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচি এগিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি, তিনি জাপানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহেই এবং পর্তুগালের পররাষ্ট্র ও সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আনা ইসাবেল জাভিয়ারের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন, জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা হয়। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, শ্রমবাজার এবং অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ওমান, চাদ ও সুইজারল্যান্ডের অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনের সার্বিক অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি
সম্মেলনের বিভিন্ন পর্ব ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং সেনেগালে নিয়োগপ্রাপ্ত বাংলাদেশের সমবর্তী রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা উপস্থিত ছিলেন। সেনেগালের রাষ্ট্রপতি বাসিরু দিয়োমায়েদিয়াখার ফায়ে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন, যাতে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নে দেশটির অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন বলে প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।



