মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলামাবাদ সফর সংক্রান্ত দাবি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
ভ্যান্সের সফর স্থগিত, ইরান আলোচনায় অনিশ্চয়তা
একটি অবগত সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন এবং তিনি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে কোনো যাত্রা করেননি। ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত থাকায় ভ্যান্সের সফর স্থগিত রয়েছে বলে সূত্রটি উল্লেখ করেছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধি দলই এখন পর্যন্ত ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়নি বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের অবস্থান ও মার্কিন পরিকল্পনা
অন্যদিকে, ইরানের একটি শীর্ষ পর্যায়ের সূত্র সোমবার রয়টার্সকে জানিয়েছে যে, ইরান শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। আরেকটি মার্কিন সূত্র থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল এখনো রওনা না দিলেও শিগগিরই ইসলামাবাদে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে, যদিও ইরান বর্তমানে পরবর্তী বৈঠকে বসার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
পূর্বের আলোচনা ব্যর্থতা ও বর্তমান প্রস্তুতি
এর আগে রোববার (১৯ এপ্রিল) জেডি ভ্যান্স ২১ ঘণ্টা ইসলামাবাদে অবস্থান করেও ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। সেই সময় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছিল দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরান তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে রাজি না হওয়ায় আলোচনা ভেস্তে গেছে। বিপরীতে, ইরানের দাবি ছিল যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আন্তরিক হতে হবে।
ইসলামাবাদে এখন মার্কিন প্রতিনিধি দলটির পৌঁছানোর অপেক্ষায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্যারেড কুশনার ও জেডি ভ্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি উপস্থিতি প্রমাণ করে যে ট্রাম্প প্রশাসন এই সমস্যার সমাধান করতে কতটা আগ্রহী। শেষ পর্যন্ত ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ট্রাম্পের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, পাশাপাশি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জটিলতাকে আরও উসকে দিচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন ইসলামাবাদের দিকে, যেখানে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।



